ট্রাম্পকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার উৎসর্গ করলেন মারিয়া!
ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করার পর পুরস্কারটি উৎসর্গ করলেন মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বিশ্ব রাজনীতিতে এটি এখন সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা—কারণ ট্রাম্প নিজেও দীর্ঘদিন ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে নোবেল পাওয়ার আশায় ছিলেন।
নোবেল কমিটি এবার তাকে উপেক্ষা করলেও, বিজয়ী মারিয়া যেন সে অপূর্ণতা পূরণ করলেন নিজের পক্ষ থেকেই। পুরস্কার পাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমেরিকার জনগণ আমাদের প্রধান মিত্র। আমি এ পুরস্কার উৎসর্গ করছি তার প্রতি, যিনি লাতিন আমেরিকায় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের পাশে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন,
এটি শুধু আমার পুরস্কার নয়; এটি ভেনেজুয়েলার নিপীড়িত জনগণের, যারা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছে। আমাদের এ সংগ্রামকে ট্রাম্প এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো অনুপ্রাণিত করেছে।
চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য জমা পড়েছিল ৩৩৮টি মনোনয়ন, যার মধ্যে ৯৪টি ছিল বিভিন্ন সংগঠনের। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও মনোনয়নের তালিকায় ছিলো। যদিও শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি পুরস্কার দেয় মারিয়াকে—যিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্জেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বিভক্ত বিরোধীদলগুলিকে একত্রিত করে অবাধ নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের দাবি তোলার ক্ষেত্রে মারিয়ার ভূমিকা ছিলো ঐতিহাসিক। তার নেতৃত্বই শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনকে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মারিয়ার পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে এ পুরস্কার উৎসর্গ করা এক অর্থে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে বাদ দিয়ে তার রাজনৈতিক সমর্থককেই সম্মান জানালেও, বিজয়ীর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকেই ‘শান্তির প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরা নিঃসন্দেহে অভাবনীয় কূটনৈতিক বার্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক এবং লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ভারসাম্য নতুন আকার নিতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























