‘৩৪ জুলাই’
শহীদ মিনার থেকে সরকার পতনের একদফা ঘোষণা
২৪ সালের জুলাইয়ের ক্যালেন্ডার তখনও রক্তে রাঙা। পায়ে পায়ে ৩ আগস্ট ২০২৪, সারা বাংলাদেশ একত্র হয়েছিলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেদিন ঘোষণা করা হয় একদফা—সরকার পতন ছাড়া আর কোনও পথ নেই।
কারফিউ, গুলির হুমকি কিংবা শক্তি প্রদর্শন—কিছুই আটকাতে পারেনি তরুণ প্রজন্মকে। উত্তাল জনতার ঢেউ শহীদ মিনারে এসে মিশেছিলো যেন ক্ষুব্ধ এক মহাসাগর, যার জলোচ্ছ্বাস যেকোনোও সময় ভেঙে ফেলতে পারে ক্ষমতার দেয়াল।
রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আপস নয়—এ স্লোগানে কেঁপে উঠেছিলো বাংলার মাটি। লাল-সবুজ পতাকা হাতে ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, শিল্পী, কৃষক—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন। বাবা-মা সন্তানের হাত ধরে, শিক্ষক ছাত্রের কাঁধে হাত রেখে মিছিলের কাতারে যোগ দেন।
সেদিন জনসমুদ্রের কণ্ঠে একটাই দাবি—এত রক্তে রাঙানো হাতের শাসন আর নয়। শহীদ মিনারের বিশাল সমাবেশ থেকে উচ্চারিত হয় সরকার পতনের একদফা ঘোষণা।
অন্যদিকে শাসকগোষ্ঠী আলোচনার আহ্বান জানালেও ছিলো ভয় ও প্রতিরোধের হুমকি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খুনি হাসিনা গণভবনের দরজা খোলা রাখার কথা বললেও একসঙ্গে ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীদের বিচার হবে। তিনি বলেন, যে কোনও সময় তারা আসতে পারে। তারা ছাত্র হোক বা যেই হোক, যথাযথ তদন্ত করে তাদের বিচার হবে, আমি সেটাই চাই।
এ দ্বন্দ্বের মাঝেই ঘটে হামলা, ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও প্রাণহানি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক নেতা তখন বলেছিলেন, শহীদ মিনারের পথে যাওয়ার আগে থেকেই মানুষ আঙুল উঁচিয়ে একদফার দাবি তুলেছিলো। স্বৈরাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে একদফা ঘোষণা মানে ছিলো নিজের মৃত্যুর সনদে সই করার মতো।
২৪ সালের ক্যালেন্ডারের দীর্ঘ রক্তিম জুলাইয়ের এ দিনে গোটা দেশ স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে মুক্তির প্রতিজ্ঞায় বদ্ধপরিকর হয়ে উঠেছিলো। সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিলো জুলাইয়ের ইতি টানার ক্ষণগণনা।
সবার দেশ/কেএম




























