বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত বিজয়ের স্মৃতি পুনর্জাগরণের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই সারা দেশ থেকে আগত মানুষে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর প্রধান সড়কটি।
ফেস্টুন, আলোকসজ্জা, বেলুন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের ঢল নামে আয়োজনে।
সকাল থেকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
বেলা ১২টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী’ ও ‘কলরব শিল্পী গোষ্ঠী’ দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে। নাহিদ, তাশফি, ইথুন বাবু, মৌসুমি, পারশা মাহজাবিন ও এলিটা করিমসহ নামকরা শিল্পীরা একের পর এক পরিবেশনা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। ব্যান্ডদল শূন্য, সোলস, ওয়ারফেজ এবং ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ব্যান্ড এফ মাইনরও অংশ নেয়।
বেলা ২টা ২৫ মিনিটে বেলুন উড়িয়ে ফ্যাসিস্ট শাসকের পলায়নের প্রতীকী উদযাপন করা হয়। ‘চিটাগাং হিপহপ হুড’ ও র্যাপার সেজানের পরিবেশিত র্যাপ গান জনতাকে উজ্জীবিত করে।
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ
বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঘোষণাপত্র পাঠের সময় জনতার মধ্যে গভীর নীরবতা নেমে আসে।
ড্রোন শোতে ইতিহাসের পুনরাভিনয়
সন্ধ্যায় ২ হাজার ড্রোনের সমন্বয়ে ‘ডু ইউ মিস মি?’ শিরোনামের বিশেষ ড্রোন ড্রামা শো প্রদর্শিত হয়। ড্রোনের আলো ও কারুকার্যে তুলে ধরা হয় জুলাই ২০২৪-এর উত্তাল দিনগুলো এবং ছাত্র-জনতার বিজয়ের কাহিনি।
উপস্থিতি ও আলোচনা
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বই প্রকাশনা উৎসব
অন্যদিকে সন্ধ্যায় ঢাকার অলিয়ঁস ফ্রঁসেজে ইউপিএল ও নেত্র নিউজের যৌথ উদ্যোগে ‘উইটনেস টু দি আপরাইজিং’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ নাফিজের বাবা-মা এবং আন্দোলনের সময় লাশ বহনকারী রিকশাচালক নুর মিয়া বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
আলোচনায় অংশ নেন নারী ও মানবাধিকার কর্মী খুশী কবীর, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, চলচ্চিত্র পরিচালক আশফাক নিপুণ ও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রকাশনা উৎসবে আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন,
জুলাই ২০২৪-এর প্রতিটি মুহূর্ত আমি ক্যামেরায় ধারণ করেছি। গুলিবিদ্ধ হয়েছি, ঘরছাড়া থেকেছি, তবু সত্যকে তুলে ধরার প্রতিজ্ঞা থেকে সরিনি।
তার ক্যামেরাবন্দি ছবি হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও জনতার প্রতিরোধের প্রামাণ্য দলিল।
দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ স্মরণীয় দিবসের অনুষ্ঠান।
সবার দেশ/কেএম




























