প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা নেই
শেখ হাসিনা প্রশ্নে ভারতের অবস্থানে অনড় দিল্লি
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ সংক্রান্ত অডিও ফাঁস এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চার্জ গঠনের ঘটনা—সবকিছুর মধ্যেও বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। দিল্লি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
গত বছর ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দিল্লিতে কূটনৈতিক চ্যানেলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠায়। ভারত সরকার সে চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করলেও এরপর সাত মাস কেটে গেলেও এ নিয়ে আর কোনো সাড়া দেয়নি।
ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, শেখ হাসিনাকে ‘যে পরিস্থিতিতে’ এবং ‘যে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে’ ভারত আশ্রয় দিয়েছে, তার মধ্যে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে অডিও ফাঁস কিংবা চার্জশিট দিয়ে দিল্লির অবস্থান বদলাবে না।
ভারতের যুক্তি, প্রধানমন্ত্রিত্বকালে কোনো গোপন অডিও ফাঁস হওয়া বা ট্রাইব্যুনালের চার্জশিট—এগুলো রাজনৈতিক আশ্রয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে না। বরং বাংলাদেশের বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই তাদের সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা, আইনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতা, আদালত প্রাঙ্গণে হেনস্তার অভিযোগ উঠে আসছে, তাতে ভারতের দৃষ্টিতে সে বিচারপ্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও ধারণা করা হচ্ছে, নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র এ প্রশ্নে ভারতীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারেন।
শেখ হাসিনার বক্তব্য বা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা নিয়েও দিল্লি ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থানে আছে। ভারতের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি আমাদের অতিথি, রাজনৈতিক বন্দি নন। কাজেই তার মুখে লাগাম পরানোর দায়ভার আমাদের নয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিকবার শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ জানানো হলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কাউকে কথা বলা থেকে আটকানো সম্ভব নয়।
বস্তুত শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন সঙ্গী হিসেবে ভারতের রাজনীতি ও কূটনীতির জটিল বাস্তবতা তাকে প্রত্যর্পণ না করার পক্ষেই আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের এক সাবেক হাইকমিশনার মন্তব্য করেছেন, শেখ হাসিনার মতো একজন নেত্রী, যিনি দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দিন ভারতের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাকে সঙ্কটে ফেলে দিলে ভবিষ্যতে আর কেউ ভারতকে বিশ্বাস করবে না।
তাই অডিও লিক হোক বা মানবতাবিরোধী অপরাধে চার্জশিট—শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। ভারতের অবস্থান এখনো একবিন্দু টলেনি।
সোর্স/বিবিসি
সবার দেশ/কেএম




























