ধর্ষণ ইস্যুতে পাহাড়ে নাশকতার ছক, নিহত ৩
খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষে নিহত ৩, সেনা কর্মকর্তাসহ আহত ১৫, কথিত ধর্ষণ ইস্যুতে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা। মারমা সম্প্রদায়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ। মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। ভারতের প্রশিক্ষিত পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেয়।
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৫ জন সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুইমারা থানার ওসি এবং আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ রোববার রাতে গণমাধ্যমকে তিনজন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সূচনা:
গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলায় মারমা সম্প্রদায়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি। প্রধান আসামি শয়ন শীলকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে ৬ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ ঘটনায় বাকি আসামিদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উত্তেজনা ও সহিংসতা:
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’ ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে গুইমারা বাজার ও আশপাশের এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দুষ্কৃতকারীরা ২০–২৫টি দোকান, কয়েকটি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও বহু বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসলে সংঘর্ষ বাধে।
নিরাপত্তা সূত্র বলছে, ভারতের প্রশিক্ষিত পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেয়। তারা সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, শান্তিপ্রিয় বাঙালি ও পাহাড়িদের জীবনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানো হচ্ছে।
উসকানি ও সংগঠিত চক্রান্ত:
নিরাপত্তা বাহিনী অভিযোগ করেছে, ইউপিডিএফ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো কথিত ধর্ষণের ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। উখ্যানু মারমার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা হচ্ছে। এছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় কানাডা প্রবাসী প্রজ্ঞা তাপস চাকমা ও চাকমা সার্কেলের প্রধান দেবাশীষ রায়ের স্ত্রী ইয়ান ইয়ান রাখাইন উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে জনমত উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছেন।
সহিংসতার ধারা:
২৬ সেপ্টেম্বর ইউপিডিএফের প্ররোচনায় একটি সেনা টহলদলে হামলা চালানো হয়, এতে তিন সেনাসদস্য আহত হন। ২৭ সেপ্টেম্বর সড়ক অবরোধ চলাকালে ইউপিডিএফের গুলিতে এক টমটম চালক আহত হন এবং একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়। একই দিনে খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় মসজিদ, দোকান ও বাঙালি বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে খাগড়াছড়ি সদর ও পৌরসভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী পাহাড়ি ও বাঙালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করেছে।
সরকারের অবস্থান:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তদন্তপূর্বক দোষীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞের মতামত:
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল বলেন, পাহাড়ে অপরাধমূলক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয়দের সহিংসতা প্রদর্শনের পেছনে ভারতের ইন্ধন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন, শান্তি রক্ষা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখার ভূমিকা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন তিনি।
জনগণের অবস্থান:
সচেতন বাঙালি ও পাহাড়িরা ইতোমধ্যে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সবার দেশ/কেএম




























