Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:১৩, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০১:১৪, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

হাত-পা ভাঙা ও কোমর ব্যথা অনেকের

ভূমিকম্পে আহত ২০৩ জন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন

ভূমিকম্পে আহত ২০৩ জন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারা দেশে শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাবে বেশিরভাগ মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে ছুটতে গিয়ে আহত হয়েছেন। হাত, পা ভেঙে, কোমর বা মাজায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় এখনও ২০৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অধিকাংশেরই অবস্থা গুরুতর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে আহতরা ভর্তি রয়েছেন। 

পঙ্গু হাসপাতালে ২৩ জন ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন নারী, একজন শিশু এবং বাকি পুরুষ। তারা সবাই প্যানিকের কারণে আহত হয়েছেন। কেউ সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে, কেউ লাফিয়ে পড়ে বা বাইরে বের হওয়ার সময় আহত হয়েছেন।

৮০ বছরের মো. ইসহাক, ৬৫ বছরের হুমায়ুন কবির, ৩৫ বছরের বিউটি বেগম, ৬০ বছরের শুভারানী, ৫৪ বছরের আব্দুস সোবহান, ৫০ বছরের মাজেদা বেগম, ৪৮ বছরের বেলাল হোসেন, ৪০ বছরের মো. মহসিন, ৪০ বছরের তানজিমা, ৩৮ বছরের রিপন মিয়া, ৩৮ বছরের রবিন হোসেন, ৩২ বছরের আল-আমীন, ৩০ বছরের সাদত হোসেন, ২৬ বছরের কৃষ্ণ, ২৬ বছরের ফরিদুল ইসলাম, ২৪ বছরের সৈয়দ হোসেন, ২৪ বছরের সজীব, ২৩ বছরের জামিনুর রহমান, ১৯ বছরের আবজাল হোসেন ও ৮ বছরের আশিকুর রহমানসহ আহতরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি বিউটি বেগম জানান, ভূমিকম্পের সময় ছাদে কাপড় ঝোলাতে গিয়ে তিনতলা থেকে পড়ে কোমর, মাজা ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তার বৃদ্ধ মা হানুফা বেগম বলেন, মেয়েকে আশপাশের মানুষদের সাহায্যে উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রাজধানীর নতুন বাজারের বেরাইদ এলাকার বাসিন্দা তানজিমা ফেরদৌস, আব্দুল্লাহপুরের ইয়াসিন আরাফাত ও মিরপুরের মনির হোসেনও দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় পড়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। জুরাইন টাওয়ারের নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রি ধলাই দুই পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আসা মো. সুবহানও বাম পায়ের হাঁটুর বাটি ভেঙে চিকিৎসাধীন।

পঙ্গু হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স লক্ষ্মী রানী দাস বলেন, 

ভর্তি রোগীদের মধ্যে অনেকের হাতে-পায়ে ফ্র্যাকচার, কোমর ও কাঁধের জোড়া সরে যাওয়া এবং গুরুতর আঘাত রয়েছে।

পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান জানান, 

শুক্রবারের ভূমিকম্পে মোট ১১৯ জন বিভিন্ন কারণে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঢামেক হাসপাতালে শতাধিক আহত চিকিৎসা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্তত ৮ জন ভর্তি। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ২০ জন আহতের মধ্যে একজন ভর্তি, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রভাবে আহতরা এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা মানুষদের মধ্যে অনেকে ফ্লোরেই শুয়ে আছেন, কারও কারও অবস্থা গুরুতর। ডাক্তাররা তাদের পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ