রাস্তা বন্ধে অসন্তোষ, নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ
নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান এবং মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তার আগমনকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই নয়াপল্টনসহ আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন তারা। ‘তারেক রহমান আসছে, রাজপথ কাঁপছে’—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকেন, পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন-এ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ সফরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়।
তবে কর্মীদের এ উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাস্তা বন্ধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, এভাবে রাস্তা বন্ধ করা হলে ভবিষ্যতে তার পক্ষে দলীয় কার্যালয়ে আসা সম্ভব হবে না। নিয়মিত অফিসে আসতে চাইলে নেতাকর্মীদের অবশ্যই স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং মানুষের চলাচলে কোনও বাধা দেয়া যাবে না।
তারেক রহমান নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কষ্ট হয়—এমন কোনও কাজ করা যাবে না এবং সকলকে আইনের মধ্যে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত সবাইকে রাস্তার একপাশে সরে দাঁড়িয়ে পথ ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান। তার এ নির্দেশনার পরপরই নেতাকর্মীরা দ্রুত সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রীর এ বার্তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























