৫ আগস্টে গণভবনের ভেতরের সূত্র
হাসিনার পলায়নের খবর দিয়েছিলেন কোন সোর্স?
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়েছেন। এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রথম দেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মিডিয়া উপদেষ্টা, যিনি নিজেই পরে স্বীকার করেন, তার তথ্যের উৎস ছিলো সরাসরি গণভবনের ভেতর থেকে।
ওই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার সোর্স ছিলো গণভবনের ভেতরে। একজনের কাছ থেকে জানার পর আরেকজনের কাছ থেকে রিকনফার্ম করি। যদিও সে উৎসের নাম তিনি গোপন রাখেন, তবে অনেকেই মনে করেন, সে শক্তিশালী উৎস ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি অথবা এসএসএফের কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা ভুল তথ্য চার হাজার বার ছড়ালে সরকার আমাকে সরাসরি প্রসিকিউট করতে পারতো। তাই একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়েই খবর পাঠাই। তার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই এএফপি (AFP) প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর দেশীয় টেলিভিশন ও অনলাইন পত্রিকাগুলো দ্রুত তা তুলে ধরে।
এ খবরে পরিস্থিতি মুহূর্তেই তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর তরফ থেকেও বিবৃতি আসে, এবং তিনি তখন নিশ্চিত হন—সবকিছু শেষ।
ওই দিনের উত্তেজনাকর প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, সকাল থেকেই গণভবন ঘিরে বাড়তে থাকে চাপ। দুটি বিশাল মিছিল গণভবনের দিকে এগোচ্ছিল—একটি উত্তরা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ, আরেকটি যাত্রাবাড়ি-শ্যামপুর দিক থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ। নিরাপত্তা বাহিনী শঙ্কিত ছিলো, এ জনস্রোত সামাল দেয়া সম্ভব নয়।
এ প্রেক্ষাপটেই শেখ হাসিনাকে বলা হয়, আপনি না গেলে, আমরা সবাই মারা যাবো। সেনা কর্মকর্তা ও এসএসএফের চাপে তিনি গণভবন ত্যাগে বাধ্য হন। প্রথমে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি দিয়ে ঢাকা ছাড়ার পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সিদ্ধান্ত বদলে তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে আগরতলা হয়ে ভারতে নেয়া হয়।
তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা সেদিন বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে একটি বিদায়ী ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।
ঘটনার শেষভাগে তিনি বলেন, যে নেতার চারপাশে সমর্থক থাকে না, বাহিনীর ওপর আস্থা থাকে না, তার পতন অনিবার্য। সেদিন সেটাই হয়েছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























