চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে মাল্টিপল ভিসার আবেদন খালেদা জিয়ার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য নতুন করে *মাল্টিপল ভিসার আবেদন করা হয়েছে। তার পূর্বের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ আবেদন করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়েছে বিএনপি
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়ে দলের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাডামের লন্ডনের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই মাল্টিপল ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে কিনা—সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে অনিশ্চয়তা
ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনও জানান, এখনও ফলোআপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেয়ার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি।
দীর্ঘ অসুস্থতা ও বিদেশে চিকিৎসার ইতিহাস
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহুদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও হার্টের সমস্যাসহ লিভার সিরোসিসে ভুগছেন। ২০২১ সালে লিভারের জটিলতা ধরা পড়ার পর থেকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি ওঠে, কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সে সময় অনুমতি দেয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর তার বিদেশে চিকিৎসার পথ খুলে যায়। মুক্তির পর কাতারের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে গত ৮ জানুয়ারি তিনি লন্ডনে যান এবং ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিকে’ চিকিৎসা নেন। ২৫ জানুয়ারি হাসপাতাল ছাড়ার পর তিন মাস কিংস্টনে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা চালান। এরপর ৬ মে দেশে ফেরেন এবং বর্তমানে গুলশানের ফিরোজায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শারীরিক অবনতি ও নতুন আলোচনা
সম্প্রতি ২৩ জুলাই রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য তাকে আবার লন্ডনে নেয়ার আলোচনা হয়। সে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন মাল্টিপল ভিসার আবেদন করা হয়েছে।
চিকিৎসক ও দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা।
সবার দেশ/কেএম




























