নেতাদের চোখে ‘রাষ্ট্রনায়কোচিত’ বার্তা
তারেক রহমানের মিডিয়া সাক্ষাৎকারে উজ্জীবিত বিএনপি
দলটির নেতাদের ভাষায়—সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান শুধু রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি তুলে ধরেছেন এক স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ পথরেখা। বক্তব্যে যেমন ছিলো সংযম ও প্রজ্ঞার ছাপ, তেমনি ফুটে উঠেছে এক রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর আবেগের প্রকাশ।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিবিসি বাংলায় দেয়া সাক্ষাৎকার ঘিরে পুরো বিএনপি অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ভাষায়—এটি শুধু একটি সাক্ষাৎকার নয়, বরং ‘জাতীয় রাজনীতির জন্য এক রাষ্ট্রনায়কোচিত ঘোষণাপত্র।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ অক্টোবর) সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর থেকে বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেতাদের অনেকে একে ‘বাস্তবতা ও আবেগের ভারসাম্যে গড়া দিকনির্দেশনা’ হিসেবে দেখছেন।
‘অত্যন্ত সুচিন্তিত শব্দচয়ন ও নেতৃত্বের পরিপক্বতা’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন,
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে শব্দচয়ন করেছেন। কোনও আক্রমণাত্মক ভাষা নয়, বরং কৌশলী ও গাইডেড বক্তব্য দিয়েছেন। এটি ইতিহাসে দলিল হয়ে থাকবে।
তিনি আরও যোগ করেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি পেশাদার পরামর্শ নিয়েই কথা বলেছেন—যা তার পরিপক্ব নেতৃত্বের প্রমাণ।
‘তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছেছে স্পষ্ট বার্তা’
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন,
এ সময়ের প্রেক্ষিতে তারেক রহমানের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশ অনিশ্চিত সময় পার করছে—নির্বাচন হবে কি না, সরকার কেমন হবে—এমন প্রশ্নের মধ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
হালিমের মতে, সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল তারেক রহমানের এ আত্মপরিচয়:
আমি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান হলেও নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী মনে করি।
‘প্রতি-হিংসামুক্ত ও উদার রাষ্ট্রনায়ক’
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী সাক্ষাৎকারটিকে আখ্যা দিয়েছেন ‘অসাধারণ ও রাষ্ট্রনায়কোচিত’ হিসেবে। তিনি বলেন,
তারেক রহমান নতুন কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেননি, কিন্তু তার বক্তব্যে হিংসা বা প্রতিহিংসার ছায়া নেই। এটাই জাতি প্রত্যাশা করে।
‘আবেগ ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’
জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন,
দেড় যুগ পর তারেক রহমান গণমাধ্যমে কথা বলেছেন—এটা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি দেশের কথা বলেছেন, ঐক্যের কথা বলেছেন, আবেগ ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তার মতে, সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিলো তারেক রহমানের পারিবারিক স্মৃতি:
উনি বলেছেন—আমার একটা ঘর ছিলো, সুস্থ মাকে রেখে গেছি, ছোট ভাইকে রেখে গেছি। এ অংশে আমরা সবাই আপ্লুত হয়েছি।
‘স্টেটম্যানের মতো দিকনির্দেশনা’
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন,
তারেক রহমানের বক্তব্যে সত্যের প্রকাশ ঘটেছে, আবেগ ও বাস্তবতার ভারসাম্য রয়েছে। তিনি একজন স্টেটম্যানের মতো কথা বলেছেন।
একই মত প্রকাশ করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন,
তার বক্তব্যে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। মানুষ আশ্বস্ত ও আশান্বিত হয়েছে—আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে পরিপক্ব, তা স্পষ্ট।
‘ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা’
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন,
তারেক রহমান জাতির প্রত্যাশার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি শুধু নিজের কষ্ট নয়, বরং নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়েই কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন,
তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা স্পষ্ট—৩১ দফা, সংস্কার ও বিচার ব্যবস্থার পুনর্গঠন নিয়ে তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে এক নবউদ্দীপনা ও ঐক্যের সুর। নেতাদের ভাষায়—
দেড় যুগ পর তারেক রহমানের এ সাক্ষাৎকার শুধু বক্তব্য নয়, এটি নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা—যেখানে আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দায়িত্ব, আর বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নেতৃত্ব।
সবার দেশ/কেএম




























