খালেদা জিয়া–তারেক রহমানের একাধিক আসনে ‘প্ল্যান বি’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিক আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনটি সংসদীয় আসনে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুইটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা মোকাবিলায় দলটির পক্ষ থেকে বিকল্প কৌশল হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে তথাকথিত ‘প্ল্যান বি’।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তিন আসনে খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবার বগুড়া-৭, ফেনী-১ ও দিনাজপুর-৩ (সদর)—এ তিন আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- বগুড়া-৭ আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এবং গাবতলী পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
- ফেনী-১ আসনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও খালেদা জিয়ার নির্বাচনি সমন্বয়ক রফিকুল আলম ওরফে মজনু।
এর আগে দিনাজপুর-৩ আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়।
অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরের পরিবর্তে মনোনয়নপত্রে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দুই আসনে তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দুইটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তার পক্ষে মনোনয়ন দাখিল করেন। সম্ভাব্য আইনি বাধা বা মনোনয়ন বাতিলের আশঙ্কা মাথায় রেখেই একাধিক আসনে মনোনয়ন দেয়ার এ কৌশল নেয়া হয়েছে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।
শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন ও ‘প্ল্যান বি’
এবারের নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী মাঠে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি, আইনি জটিলতা কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন ঝুঁকিতে পড়লে যেন বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া যায়—সে লক্ষ্যেই ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একক কৌশলে নির্ভর না করে একাধিক বিকল্প খোলা রাখাই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আগামী দিনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, আপিল ও প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























