আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বিগ্ন
গণভোটে ‘না’ বলার সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংসদ সংস্কার নিয়ে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এসব সংস্কার প্রস্তাব নতুন কিছু নয়; বহু আগেই বিএনপি জাতির সামনে তা উপস্থাপন করেছে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল হলেও দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ী তাঁতিপাড়ায় নিজ পৈতৃক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছিলো। বাস্তবতাও এখন সে পথেই এগিয়েছে। সংসদ সংস্কার নিয়ে যে প্রস্তাবগুলো গণভোটে তোলা হয়েছে, সেগুলো বিএনপি ২০১৬ সালেই এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছিলো। তার ভাষায়, সংস্কার কোনও স্থির বিষয় নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলন হওয়া জরুরি এবং এ সংস্কারের প্রশ্নে ‘না’ বলার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গোটা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারছে না। তিনি অভিযোগ করেন, যে হারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে, বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে দলটির পক্ষ থেকে বারবার তীব্র নিন্দা জানানো হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
নির্বাচনের সময় এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনকে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব।
এ সময় ছাত্রসংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। ছাত্র রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি ও ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবুও ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি মূলত একটি ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা সফর। সফরকালে তারেক রহমান বগুড়া থেকে যাত্রা শুরু করে রংপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর দিনাজপুর হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে একই আন্দোলনে নিহত শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন।
সবশেষে তিনি জানান, তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে পঞ্চগড় যাবেন।
মির্জা ফখরুলের মতে, এই সফরের মাধ্যমে জেলা ও গ্রামাঞ্চলের তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা নতুন করে উজ্জীবিত হবেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
সবার দেশ/কেএম




























