দেশ গড়ার রূপরেখায় মতামত চাইলেন তরুণদের কাছ থেকে
দোষারোপের রাজনীতি ছাড়তে আহ্বান তারেক রহমানের
দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গড়ার পথে এগোতে তরুণদের পরামর্শ চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে পারস্পরিক দোষারোপের চর্চা থাকলেও সে বৃত্ত ভেঙে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের চিন্তা, মতামত ও পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে অনুষ্ঠিত ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তরুণ জনগোষ্ঠী। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর দেশ এ বিশাল ইয়ুথ ফোর্সের সুবিধা পাবে। এ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে কোন পথে সাজানো হবে—সে বিষয়ে তরুণদের কাছ থেকেই তিনি ধারণা নিতে চান।
তিনি বলেন, শুধু কে খারাপ, কে ভালো—এ ধরনের আলোচনা করে কোনো সমাধান আসে না। সমস্যার তালিকা করা সহজ, কিন্তু সমাধানের পরিকল্পনা জরুরি। বিএনপি ইতোমধ্যে অনেক সমস্যার সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে যারা ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, সে তরুণদের কাছ থেকেই তিনি জানতে চান—তারা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় এবং কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে চায়।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে বিএনপি, যাতে মেধাবীরা অর্থের অভাবে পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে না পড়ে।
পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে একদিকে যেমন বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব, অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও সমৃদ্ধ করা যাবে। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।
রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের সম্পর্ক তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না, তা বাস্তবায়নের আন্তরিক চেষ্টা থাকতে হবে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়ন না করলে কোনও রাজনৈতিক দলই জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারবে না।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে কোনও উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হবে না। সমাজে চাঁদাবাজির সমস্যা নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের একটি স্পষ্ট বার্তাই অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। যদি সরকারের অবস্থান হয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তাহলে অপরাধ অনেকাংশেই কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা অংশ নেন এবং তাদের মতামত ও প্রশ্ন তুলে ধরেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের এ মতামত ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























