ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি চেয়ারম্যানের সতর্কবার্তা
একটি দল পোস্টাল ব্যালট দখল করেছে: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, পত্রিকার পাতায় এসেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে—বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো ব্যালট পেপার কীভাবে একটি দল দখল করেছে, তা সবাই দেখেছে। এ চক্রান্ত দেশের ভেতরেও চলছে।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আবারও গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যার যার এলাকার ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে। তাহাজ্জুতের সময় উঠতে হবে। কারণ, এ ভোট নিয়ে নানা চক্রান্ত হচ্ছে, আগেও যেমন নিশিরাতে ভোট হয়েছিলো, এবারও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে (উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম) আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। রাত ১০টার দিকে তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছান। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও জোট মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। বিকেল চারটায় কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। তিনি বলেন, এ ভোটে সবাইকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। যে অধিকারটি গত ১৫ বছর ধরে জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিলো। শুধু ভোট দেয়ার অধিকার নয়, একই সঙ্গে মানুষের কথা বলার অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছিলো বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিগত নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছরে মানুষ কি কোনও প্রকৃত নির্বাচনী জনসভা দেখেছে? কেউ কি ঠিকমতো ভোট দিতে পেরেছে? পারেনি। কিন্তু এবার যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। এ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বহু মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই অন্তত ১৫ জন মানুষ শহীদ হয়েছেন, আরও শত শত মানুষ আহত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ভোটের দিনের প্রস্তুতি নিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোট দিতে সকালে উঠলেই হবে না। ভোররাতে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে ঘর থেকে বের হতে হবে। নিজের ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ, ভোট নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে।

তিনি বলেন, যদি সবাই ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেয়, তাহলে বিজয় সুনিশ্চিত। কেন্দ্র খোলার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে সিল দিতে হবে।
ভোট দেয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে সিল দিতে হবে। পাশাপাশি ধানের শীষের সহকর্মী হিসেবে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সঙ্গে ছিলেন, তাদের প্রতিও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি খেজুরগাছ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ও মাথাল প্রতীকের প্রার্থী জোনায়েদ সাকির নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা আন্দোলনের সাথি, বিএনপি ও ধানের শীষের সহকর্মী। তাই ধানের শীষের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব তাদেরও বিজয়ী করে আনা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের মো. আব্দুল হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের মুশফিকুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের মো. আব্দুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
সবার দেশ/কেএম




























