বিশেষ কমিটির বৈঠক
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলে সুপারিশ, জামায়াতের আপত্তি
#অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টিতে ঐকমত্য। #গণভোটসহ ২০টির বিষয়ে বিশেষ কমিটিতে ঐকমত্য হয়নি। #সরকারি দল বলছে, গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। #কয়েকটি সংশোধনের সুপারিশের বিষয়ে জামায়াতের আপত্তি।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ ঘিরে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অধ্যাদেশটি বাতিলের সুপারিশ করা হলেও এর বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে বিষয়টি সামনে আসে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টির বিষয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তবে গণভোট অধ্যাদেশসহ ২০টি বিষয়ে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য সদস্যরা।
কমিটির বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, যে আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিলো তা এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় এটি আইনে পরিণত করা সম্ভব নয়। তাই অধ্যাদেশটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে এ সুপারিশের কড়া বিরোধিতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ তাদের মতামত দিয়েছেন, সেটিকে এভাবে বাতিলের সুপারিশ করা সঠিক নয়। তার মতে, কোনও আইন এখতিয়ারবহির্ভূত কি না, সেটি আদালতই নির্ধারণ করবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
গণভোট বিল রহিতকরণের উদ্যোগ খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এতে একমত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।
অন্যদিকে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানান, গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। বিষয়টি আগামী ২৯ মার্চের বৈঠকে অথবা সংসদ অধিবেশনে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এটিকে বাতিল বা বহাল—কোনোটির পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিইনি। সংবিধানের আলোকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
একই বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়েও মতবিরোধ দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত, ফলে সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এ কারণে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তৎপরতা বাড়িয়েছে বিশেষ কমিটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অধ্যাদেশগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে—কিছু সরাসরি পাস করা হবে, কিছু সংশোধনীসহ পাস হবে, আর যেগুলোতে ঐকমত্য হবে না, সেগুলো আপাতত বাতিল হয়ে পরবর্তীতে বিল আকারে আনা হতে পারে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার সংবিধান ও ‘জুলাই সনদ’-কে সামনে রেখেই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তার ভাষায়, জনপ্রত্যাশা ও সাংবিধানিকতার সমন্বয় করেই আমরা এগোচ্ছি।
আগামী ২৯ মার্চের বৈঠকে বাকি অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আবার আলোচনা হবে। ঐকমত্য না হলে সেগুলো সংসদে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























