বিসিবি-বাফুফে মুখোমুখি, সরি বলতেও রাজি নন আসিফ
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে মাঠ ব্যবহারের ইস্যুতে ফের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের এ অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে এসেছে বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবরের মন্তব্য ঘিরে।
গত রোববার রাজধানীর এক হোটেলে বিসিবির একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আসিফ ফুটবল কর্তাদের আচরণ ও মাঠ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বাফুফে বিসিবিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পাঠায়। তবে আসিফ আকবর কোনোভাবেই পিছু হটছেন না। তার ভাষায়, আমার কথা অর্ধেক শোনা হয়েছে। আমি যা বলেছি, তা দেশের খেলাধুলার স্বার্থে বলেছি। সরি বলার প্রশ্নই আসে না।
আসিফের মূল অভিযোগ—ফুটবল ফেডারেশনের স্বেচ্ছাচারিতা। তিনি বলেন, এশিয়ান আর্চারি টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা ঢাকায়, ভেন্যু এক বছর আগেই ঠিক। ৩০টি দেশ অংশ নেবে। অথচ ঠিক দু’দিন আগে বাফুফে ঘোষণা দিলো ওখানে বাংলাদেশ-নেপাল প্রীতি ম্যাচ হবে। এটা কি যুক্তিসংগত? ১৮ নভেম্বরের বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ তো ঠিকই আছে, কিন্তু আর্চারির ভেতরে কেন ঢোকানো হলো এ ম্যাচ? এটা স্বেচ্ছাচারিতার দৃষ্টান্ত।
মাঠ ইস্যু নতুন নয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে ফুটবল আলাদা হওয়ার পর থেকেই মাঠ ব্যবহারে ফুটবল ও ক্রিকেটের টানাপোড়েন চলছে। অনেক জায়গায় তা এখন শত্রুতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। আসিফ বলেন, আমি বহু বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কথা বলেছি। মাঠ নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা চলছে, সেটা তুলে ধরেছি। লাখ লাখ তরুণ মাঠ পাচ্ছে না। তাদের মাঠে ফেরাতে হবে। আমি কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে কথা বলেছি।

আসিফের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে তিনি দেখেছেন ফুটবল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, অথচ ফুটবলের নামে মাঠ বরাদ্দ। ফুটবলকে ১০টা মাঠ দিন, আমাদের ৫টা দিন—তাতেই আমি খুশি হবো। কিন্তু বাফুফে কি নিশ্চিত করছে যে ওই মাঠগুলোয় নিয়মিত খেলা হচ্ছে?—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এদিকে মাঠ সংকটের কেন্দ্র এখন কুমিল্লা। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আগামী ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ। আসিফ এখানেও মাঠের দাবি তুলেছেন। আমি প্রয়োজনে আদালতে যাবো। মাঠের ন্যায্য অধিকার চাইবো, বলেন তিনি।
বসুন্ধরা কিংসের নিজস্ব ভেন্যুর উদাহরণ টেনে আসিফ প্রশ্ন তোলেন, মোহামেডান শতবর্ষী ক্লাব, আবাহনীর বয়সও পঞ্চাশের বেশি। তাদের কেনো নিজস্ব মাঠ নেই? বড় স্পন্সর কি নেই তাদের? ইচ্ছার অভাবই মূল সমস্যা।
নিজের মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার জবাবে আসিফ বলেন, আমি চাই সবাই আলোচনা করুক, আমার সমালোচনা করুক। কিন্তু মাঠ সংকট নিয়ে সমাধান আসুক। কে কখন মাঠ ব্যবহার করবে, এটা নিয়ে স্থায়ী সিদ্ধান্ত দরকার।
বাফুফে ও বিসিবির এ মুখোমুখি অবস্থান আবারও সামনে নিয়ে এলো বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর পুরনো সংকট—মাঠের অভাব ও সমন্বয়ের অভাব। সমালোচকরা বলছেন, দুই বোর্ডের এ দ্বন্দ্ব চলতে থাকলে মাঠের সংকটে ভুগবে খেলোয়াড়রাই, আর পিছিয়ে পড়বে দেশের খেলাধুলা।
সবার দেশ/কেএম




























