ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
আইসিসি ভারতের প্রভাবমুক্ত হলে বাংলাদেশকে শ্রীলংকায় খেলতে দেবে
আইসিসির ভূমিকা ও ভারতের প্রভাব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশকে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার সুযোগ দেয়ার দাবি জানালেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, আইসিসি যদি সত্যিই একটি বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং ভারতের কথায় ওঠবস না করে, তাহলে বাংলাদেশকে শ্রীলংকায় খেলতে দেয়াই হবে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।
সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, এ প্রশ্নে বাংলাদেশ কোনও ধরনের নতি স্বীকার করবে না। তার ভাষায়, আইসিসি যদি আশা করে বাংলাদেশ তাদের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে দল গঠন করবে, সমর্থকরা জাতীয় দলের জার্সি পরতে পরবে না কিংবা খেলার সুবিধার জন্য নির্বাচন পেছাতে হবে—তাহলে সেটি বাস্তবতা বিবর্জিত কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়।
আসিফ নজরুল বলেন, ভারতে বর্তমানে যে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশবিরোধী পরিবেশ বিরাজ করছে, বিশেষ করে গত ১৬ মাস ধরে চলমান ধারাবাহিক প্রচারণার প্রেক্ষাপটে সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে ক্রিকেট খেলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার মতে, মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যু এবং আইসিসির পাঠানো চিঠি এ বাস্তবতাকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নেই। অথচ ভারতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মতো একটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ যখন প্রকাশ্য বা পরোক্ষভাবে বলে যে নির্দিষ্ট কোনও খেলোয়াড়কে সেখানে খেলানো উচিত নয়, তখন সেটিই আইসিসির সামনে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হওয়া উচিত যে বাংলাদেশ দলের জন্য সেখানে খেলার পরিবেশ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া উপদেষ্টা বিকল্প ভেন্যুর প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, সংবাদপত্রে তিনি দেখেছেন—এটি সত্য না মিথ্যা তা নিশ্চিত নন—পাকিস্তান নাকি বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। তার মতে, পাকিস্তানে কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলা হলে বাংলাদেশের কোনও আপত্তি নেই।
সবশেষে আসিফ নজরুল বলেন, যেখানে একটি দলের খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না, সেখানে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভারতের কোনও জায়গাতেই বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ খেলার পরিবেশ নেই—এ বাস্তবতা আইসিসির সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























