ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় রুমিন ফারহানাকে শোকজ
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ করেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) তিনি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে পেন্ডেল করে বড় ধরনের জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ ভেঙে দেয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনসহ আঙুল উঁচিয়ে বারবার হুমকি দেন। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মারমুখী আচরণ করেন, ফলে বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি মব আকার ধারণ করে। অভিযোগের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর লিংকও সংযুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, আচরণবিধি অমান্য করে রুমিন ফারহানা প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের উপস্থিতিতে বড় স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। জনসভা বন্ধ করতে বলা হলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ৫ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সতর্কবার্তা দেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এবং কাউকে ডান চোখে কাউকে বাম চোখে না দেখে। নিরপেক্ষতার ঘাটতি থাকলে সারা দেশে যেভাবে ৫ আগস্ট হয়েছিলো, তেমন পরিস্থিতি যে কোনও আসনেই তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সভা থেকে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর অভিযোগ তুলছিলো, সে প্রসঙ্গ বোঝাতে গিয়ে তিনি এমন ভঙ্গি করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন কোনও পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
সবার দেশ/কেএম




























