জেলারকে সপরিবারে হত্যার হুমকি আ.লীগের সাবেক এমপির, থানায় জিডি
নাটোর জেলা কারাগারের জেলার শেখ মো. রাসেলকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা ও নাটোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল—এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জেলার শেখ মো. রাসেল।
জিডি সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভারতের একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে নিজের পরিচয় দিয়ে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল জেলার রাসেলকে ফোন করেন। ফোনালাপে তিনি নাটোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি মো. কোয়েলের জামিন প্রসঙ্গে কথা বলেন।
সাবেক এমপি শিমুল জেলারকে নির্দেশ দেন, কোয়েলের জামিনের কাগজপত্র নাটোর কারাগারে পৌঁছালে যেন আপনি কাউকে কিছু না জানান। জেলার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করলেও কথোপকথনের সময় তিনি নিশ্চিত হন, কলদাতা সত্যিই সাবেক এমপি শিমুল।
পরবর্তীতে বুধবার রাতে একই বিদেশি নম্বর থেকে শিমুল হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস বার্তাও পাঠান, যেখানে জেলার ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

জানা গেছে, ১৫ দিন আগে নাটোর কারাগারে থাকা কোয়েলকে হাজিরার জন্য কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তিনি কুষ্টিয়া কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়ার গোয়েন্দা পুলিশ তাকে পুনরায় আটক করে। এরপরপরই সাবেক এমপি শিমুল ক্ষিপ্ত হয়ে জেলার রাসেলকে আবারও হুমকি পাঠান।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১ মিনিট ও ২টা ৯ মিনিটে ওই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে পরপর দুটি বার্তা আসে। প্রথম বার্তায় লেখা ছিলো—
আপনি যে অন্যায় কাজটা করলেন, আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখে, মনে রাখবেন আপনার বৌসহ পরিবারকে কীভাবে বাঁচাবেন সেটা ঠিক করে রাখবেন।
অপর বার্তায় বলা হয়,
আপনার বিষয়টি নোট করে রাখা হয়েছে।
এ বার্তা পাওয়ার পর থেকেই জেলার রাসেল ও তার পরিবার ভয়ে আছেন। তিনি বলেন,
আমি নিয়ম মেনে কাজ করেছি। কিন্তু এখন আমার স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। তাই আইনি সুরক্ষার জন্য থানায় জিডি করেছি।
নাটোর সদর থানার ডিউটি অফিসার সালমা খাতুন জিডি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। হুমকির উৎস ও প্রেরক শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনাটি নাটোরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সবার দেশ/কেএম




























