জুলাই অভ্যুত্থানের রায় ঘোষণায় দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন
শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সোমবার, ১৭ নভেম্বর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।
ট্রাইব্যুনাল সকাল থেকেই উপচে পড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘেরা ছিলো। আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের ভিড়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি রায়কে ঘিরে ব্যাপক আন্তর্জাতিক মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়। টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন মাধ্যমগুলো সরাসরি সম্প্রচার করে রায় ঘোষণা প্রক্রিয়া।
রায়ে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে গণহত্যা ও নিরীহ মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের নির্দেশ প্রদানের অভিযোগে শেখ হাসিনা আইনসম্মত প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি, তদন্ত প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এ রায়ে উপনীত হয়।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আদালত চত্বরের বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীরা歓ধ্বনি তোলে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বিশেষ করে ছাত্র-জনতা ও গণঅভ্যুত্থান সমর্থক সংগঠনগুলো এই রায়কে জনগণের বিজয় হিসেবে দাবি করেছে।
এদিকে রায় নিয়ে সরকারপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলের আবেদন করা হতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এই মামলার রায় রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
সবার দেশ/কেএম




























