দেয়াল লিখন ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
রাবিতে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’ লেখার পাশে শিবিরের ফটোসেশন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্ররাজনীতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’—ছাত্রদলের এমন দেয়াল লিখনের সামনে দাঁড়িয়ে ফটোসেশন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা, যা নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশের দেয়াল লিখনের সামনে শিবিরের নেতাকর্মীদের ছবি তুলতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ছাত্ররাজনীতির দুই সংগঠনের মধ্যে অবস্থানগত দ্বন্দ্ব আবারও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, তারা স্রেফ ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দেয়াল লিখনটি দেখতে পান এবং সেখানে ছবি তোলেন। তিনি দাবি করেন, ‘গুপ্ত রাজনীতি’ না থাকার বিষয়ে ছাত্রদলের বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত। তার ভাষায়,
দেশের রাজনীতি দেশের মাটিতেই করতে হবে এবং সংকটের সময় দেশত্যাগকারী গুপ্তদের রাজনীতি জনগণ চায় না।
একই সংগঠনের দাওয়াহ সম্পাদক ও মতিহার হল সংসদের ভিপি তাজুল ইসলাম বলেন, ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ বলার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, শিবির প্রকাশ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে—যেমন ক্যারিয়ার গাইডলাইন, প্রকাশনা উৎসব, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, গোলটেবিল বৈঠক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। এছাড়া রাকসু ও হল সংসদে নির্বাচনের মাধ্যমেও তাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘদিন গোপনে রাজনীতি করেছে, তারাই এখন ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করছে। তাদের মতে, গত ১৭ বছর ধরে শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশে থেকেই নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, বিদেশে পালিয়ে থাকার কোনও নজির নেই।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাবি ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ’ দাবিতে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, শিবির ও জামায়াতের গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনও কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।
ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























