হুঁশিয়ারি খামেনির উপদেষ্টার
মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন হবে
মার্কিন হামলার জবাবে ভয়াবহ প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়াতি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে আর কোথাও নিরাপদ থাকবে না। তাদের ঘাঁটি বলে কিছু থাকবে না।
রোববার (২২ জুন) ইরানি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেলায়াতি বলেন, মার্কিন হামলার পর এ অঞ্চলে তাদের ও তাদের ঘাঁটির আর কোনো স্থান থাকবে না। যদি অন্য কোনও দেশ এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে, তবে সেগুলোও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। এ বক্তব্যটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে মার্কিন আগ্রাসনের উৎসভূমি চিহ্নিত করেছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আমরা জানি কোথা থেকে হামলা চালানো হয়েছে, এবং সময়মতো জবাব দেয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ছড়িয়ে রয়েছে ইরাক, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সিরিয়াজুড়ে। এ ঘাঁটিগুলোর অনেকগুলোকেই এরইমধ্যে ইরান ‘হাই-রিস্ক টার্গেট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসির প্রভাবশালী কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হলে, ইরান ইরাকে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সরাসরি প্রতিশোধ নেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল আবিবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার পর এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে যে সুরে কথা বলছে তেহরান, তা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—কোনো নতুন আক্রমণ হলে যুদ্ধ আর মধ্যপ্রাচ্যের সীমায় আবদ্ধ থাকবে না। সে আগুন পৌঁছে যাবে আমেরিকান সামরিক ছাউনি আর মিত্র রাষ্ট্রগুলোর বুকেও।
তেহরানের ঘোষণা: এ লড়াই কেবল ফিলিস্তিন বা ইসরায়েলের নয়—এটি প্রতিরোধ বনাম আধিপত্যের, সম্মান বনাম আগ্রাসনের। আর মার্কিন ঘাঁটি? সেগুলো হবে এ সংঘাতের প্রথম শিকার।
সবার দেশ/কেএম




























