Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৭, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

আপডেট: ১২:০৯, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ওএইচসিএইচআর-এর প্রতিক্রিয়া

হাসিনা–কামালের বিরুদ্ধে রায় ভুক্তভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

হাসিনা–কামালের বিরুদ্ধে রায় ভুক্তভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডাদেশকে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর—ওএইচসিএইচআর।

রায় ঘোষণার পর সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওএইচসিএইচআরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এ মন্তব্য করেন। গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার শিকারদের জন্য এই রায়কে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে স্পষ্ট অসন্তোষও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জবাবদিহির দাবি

বিবৃতিতে রাভিনা শামদাসানি বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওএইচসিএইচআরের তদন্ত-প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই জাতিসংঘ বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং নেতৃত্বের আসনে থাকা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বিচারের আওতায় আনতে আহ্বান জানিয়ে আসছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকারের ব্যবস্থার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ওএইচসিএইচআর এই বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত ছিলো না। তবুও জাতিসংঘ সবসময়ই জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণের ওপর জোর দিয়ে এসেছে। বিশেষ করে অনুপস্থিতিতে বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন রাভিনা।

মৃত্যুদণ্ডে জাতিসংঘের স্পষ্ট আপত্তি

মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে গভীর দুঃখ ও আপত্তি জানিয়ে রাভিনা শামদাসানি বলেন, জাতিসংঘ সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য এটি বাতিলযোগ্য একটি শাস্তি বলে মনে করে। তিনি আবারও বাংলাদেশকে মৃত্যুদণ্ড পরিহার করার আহ্বান জানান।

সত্য প্রকাশ ও সংস্কারের ওপর জোর

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ এ অস্থির ও বিভক্ত সময় অতিক্রম করে সত্য প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচারের একটি সমন্বিত জাতীয় প্রক্রিয়ার দিকে এগোবে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা খাতের অর্থবহ ও রূপান্তরমূলক সংস্কার প্রয়োজন—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড পূরণ করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নিপীড়ন বা মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ করবে।

টুর্ক আরও জানান, এ সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে সহায়তা করতে ওএইচসিএইচআর প্রস্তুত রয়েছে।

শান্ত থাকার আহ্বান

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও সহিংসতা এড়িয়ে সবার প্রতি সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন হাইকমিশনার। তিনি বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কোনওভাবেই নতুন সহিংসতার সূত্রপাত ঘটাতে পারে না—বরং সত্য ও ন্যায়বিচারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন