ট্রাইব্যুনালের রায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: হাসিনা
ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট, অসম ও সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা।
ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত হাসিনা পাঁচ পৃষ্ঠার এক বিবৃতি দিয়ে জানান—তার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মূলত ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করে রাখার কৌশল।’
শেখ হাসিনার এ বিবৃতি রায়ের পরপরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশেষত বিবিসি ও অন্যান্য বিদেশি সংবাদসংস্থায় প্রকাশিত হয়।
‘প্রহসনের বিচার’—হাসিনার অভিযোগ
রায়ের আগেই পুরো বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে প্রণোদিত। তিনি দাবি করেন—ন্যায়সঙ্গত বিচার হলে তিনি অভিযোগকারীদের মুখোমুখি হয়ে সত্য প্রমাণ করতে সক্ষম।
বিবৃতিতে হাসিনা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন—অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে মামলা হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠাতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, মানবাধিকার ও উন্নয়ন খাতে তার সরকার যে কাজ করেছে, সে রেকর্ড নিয়ে তিনি গর্বিত।
ট্রাইব্যুনালের রায়: হাসিনা–আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড
আজ সোমবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও দমন-পীড়নের দায়ে শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দণ্ড দেন।
একই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে হওয়া এটিই প্রথম মামলা, যার আনুষ্ঠানিক রায় আজ ঘোষণা করা হলো।
আন্তর্জাতিক মহলে নজরদারি বাড়ছে
রায়ের পর আন্তর্জাতিক মহলে মামলাটি নিয়ে আগ্রহ আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে হাসিনার দাবি, অভিযোগগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় তৈরি—এ ইস্যু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, রায় কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























