আইন বদলে নতুন পথে ফ্রান্স
দাম্পত্যে যৌন সম্পর্ক বাধ্যতামূলক নয়
দাম্পত্য সম্পর্ক মানেই যৌন সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা—এমন দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ধারণা আইনি কাঠামো থেকে বাদ দেয়ার পথে এগোচ্ছে ফ্রান্স। এ লক্ষ্যে দেশটির জাতীয় পরিষদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি)) অনুমোদিত এ বিল অনুযায়ী, ফরাসি সিভিল কোডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে—স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বসবাস মানেই যৌন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নয়।
প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক না থাকাকে ‘দোষ’ হিসেবে দেখিয়ে আর বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যদিও আইনটি তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আনবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সমর্থকদের মতে এটি দাম্পত্য ধর্ষণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিলটির উদ্যোক্তা গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য মেরি-শার্লট গারাঁ বলেন, দাম্পত্যে যৌন সম্পর্ককে ‘অধিকার’ বা ‘কর্তব্য’ হিসেবে দেখার ধারণা মূলত স্বামীর আধিপত্য ও নিপীড়নের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখে। তিনি বলেন, বিয়ে এমন কোনও সম্পর্ক নয়, যেখানে আজীবনের জন্য যৌন সম্মতি ধরে নেয়া হবে।
বর্তমানে ফরাসি সিভিল কোডে দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব হিসেবে সম্মান, বিশ্বস্ততা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তার কথা বলা আছে। তবে অতীতে মধ্যযুগীয় চার্চ আইনের প্রভাবে কিছু ক্ষেত্রে ‘সহবাস’ শব্দের ব্যাখ্যায় যৌন সম্পর্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো।
২০১৯ সালের একটি আলোচিত মামলায় দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক না রাখার অভিযোগে এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিলো। পরে তিনি ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে আপিল করলে আদালত ফ্রান্সকে তিরস্কার করে জানায়—যৌন সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করা বিবাহবিচ্ছেদের ‘দোষ’ হতে পারে না। এরপর থেকেই ফরাসি আদালতে কার্যত এমন রায় দেয়া বন্ধ হয়ে যায়।
নতুন আইনটি মূলত সে অবস্থানকে স্পষ্টভাবে আইনে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। নারীবাদী সংগঠনগুলোর মতে, সমাজে এখনও ‘স্ত্রীর যৌন দায়িত্ব’ ধারণা বিদ্যমান, যা পরিবর্তন করা জরুরি।
ফ্রান্সে ১৯৯০ সাল থেকেই দাম্পত্য ধর্ষণ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের আইনি সংজ্ঞাও বিস্তৃত করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—নীরবতা বা প্রতিক্রিয়ার অভাব কখনোই সম্মতি হিসেবে বিবেচিত হবে না।
সবার দেশ/কেএম




























