গাজায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যার স্বীকার ইসরায়েলের
গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইসরায়েল। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াইনেট নিউজসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করে।
দীর্ঘদিন ধরে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেয়া নিহতের পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসলেও এবার প্রায় একই ধরনের হিসাব মেনে নিলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর আগে তেল আবিব দাবি করেছিলো, হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়। তবে জাতিসংঘ শুরু থেকেই ওই পরিসংখ্যানকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, সেনাবাহিনীর নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এ সংখ্যার মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। নিহতদের মধ্যে কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক, তা নির্ধারণে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চাইলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশ করা হবে। ইসরায়েলের এ স্বীকারোক্তিকে গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে আরও অন্তত ৪৮০ জন নিহত হয়েছেন।
গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের বড় একটি অংশই নারী ও শিশু। পাশাপাশি উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের নিহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে নিহতদের নাম ও বয়সসহ বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে আসছে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি গাজায় শত শত কবর ধ্বংসের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের এ স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জরুরি মানবিক সহায়তার সংকট এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স
সবার দেশ/কেএম



























