বিবিসি বাংলাকে ভারতীয় বিশ্লেষক
জামায়াতকে নিয়ে দিল্লির দ্বিধা: ‘চার্ম অফেনসিভ’ নাকি পুরোনো রূপ?
বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে দিল্লির আলোচনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—এ দলটিকে নিয়ে ভারতের অবস্থান কী হওয়া উচিত? দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী এ দলকে রাজনৈতিকভাবে অস্পৃশ্য মনে করেছে ভারত। এমনকি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেও দিল্লি অনীহা দেখিয়েছে, মূলত জামায়াতের ঘনিষ্ঠতার কারণে।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন পরিসরে জামায়াতের শক্তি বৃদ্ধির লক্ষণ স্পষ্ট। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দলটি যেন এখন এক ধরনের ‘জামায়াত ২.০’—যেখানে নবীন নেতৃত্ব নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ, নতুন ভাষা আর নতুন বক্তব্য নিয়ে হাজির হচ্ছে।
ভারতীয় বিশ্লেষক শ্রীরাধা দত্ত বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াতের অবস্থান জানতে চাইলে তাহের দাবি করেন, দলটি কখনোই বাংলাদেশে শরিয়া আইন চাপিয়ে দেয়ার কথা বলেনি, বরং একাত্তরের অবস্থানের জন্য আগের প্রজন্মের নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
দত্তর মতে, নতুন নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারেও আগ্রহী। তাদের যুক্তি—ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী, তাই সম্পর্ক উন্নয়নে দ্বিধার কোনো কারণ নেই। এমনকি ভারতবিরোধী নানা ঘটনা বা অস্ত্র পাচারের মামলার সঙ্গেও জামায়াতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি বলে তারা দাবি করছে। তবে দত্ত সতর্ক করে দেন—জামায়াতের এ ‘চার্ম অফেনসিভ’ কথায় মুগ্ধ করার কৌশল হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে দলটি কী করছে সেটাই আসল প্রশ্ন।
অন্যদিকে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এসব যুক্তি একেবারেই মানতে নারাজ। তার মতে, জামায়াতের অতীত ইতিহাস, বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা ও সহিংস রাজনীতির রেকর্ড, তাদের কখনোই বিশ্বাসযোগ্য করে না। তিনি বলেন, ‘চিতাবাঘ তার ডোরা পাল্টায় না—জামায়াতও আসলে পাল্টাবে না।’ শ্রিংলার মতে, মুসলিম ব্রাদারহুডের অংশ হিসেবে জামায়াতের মূল চরিত্র অপরিবর্তনীয়।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ভারতের জন্য এক ধরনের দ্বিধা তৈরি করেছে। একদিকে জামায়াতের নবীন নেতৃত্বের নতুন বক্তব্য, অন্যদিকে পুরোনো ইতিহাস ও অবিশ্বাসের ছায়া—এ টানাপোড়েনে দিল্লিকে এখন কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























