রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর ভার্চুয়াল বৈঠকেই রাষ্ট্রবিরোধী পরিকল্পনা: সিআইডি প্রতিবেদন আদালতে জমা
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন নেটওয়ার্ক ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকৌশল এবং সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।
সিআইডির এই প্রতিবেদনটি গত ১৪ আগস্ট আদালতে জমা দেয়া হয়। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতে মামলার বিচারকাজ শুরু করার আদেশ দিয়েছেন।
‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে ষড়যন্ত্রের সূচনা
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজন করে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি। বৈঠকটি হয় জুমে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী আওয়ামী নেতা ও সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
সিআইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি এবং পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য, নথি ও ডিজিটাল প্রমাণও তদন্তকারীরা সংগ্রহ করেছেন।
সরকারের অনুমোদনের পর মামলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব তথ্য পুলিশের সদর দপ্তর থেকে পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে সিআইডি গত মার্চে মামলা দায়ের করে।
ফরেনসিক বিশ্লেষণে প্রমাণ সংগ্রহ
সিআইডি জানিয়েছে, মামলার পর বিপুল ডিজিটাল তথ্য, ই-মেইল ও সার্ভার ডেটা সংগ্রহ করা হয়। ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান, বক্তব্য ও অনলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তদন্তে শেখ হাসিনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বি আলম, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের আওয়ামী নেতা, এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতাদের নাম উঠে এসেছে।
গ্রেফথার ৯১ জন, পলাতক ১৯৫
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯১ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে অন্য মামলায় আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন। বাকি ১৯৫ জন এখনও পলাতক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডির বক্তব্য
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন,
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক কাঠামোকে বিপন্ন করার মতো পরিকল্পনা আমরা প্রযুক্তিগতভাবে শনাক্ত করেছি। তদন্তের প্রতিটি ধাপ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মামলাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে, কারণ এটি প্রথমবারের মতো কোনও প্রধান রাজনৈতিক দলের সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ‘বহুজাতিক নেটওয়ার্কভিত্তিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তদন্ত করা হলো।
সবার দেশ/কেএম




























