ভারতে নয়া মার্কিন দূতকে ড. ইউনূস
হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক বৈঠকে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানকে ভারত ইতিবাচকভাবে নেয়নি, বরং নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে আলোচনায় এ মন্তব্য করেন ড. ইউনূস। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সার্জিও গোরকে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, গত বছরের ছাত্র আন্দোলন ভারত স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। বরং ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আন্দোলনকে ইসলামী আন্দোলন হিসেবে প্রচার করেছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেয়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লি বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং এর ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ড. ইউনূস আরও দাবি করেন, ভারতের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, সার্ক একটি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে অকার্যকর হয়ে গেছে। এসময় তিনি বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, সার্কের সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন হয় ২০১৪ সালে। ২০১৬ সালের সম্মেলনটি পাকিস্তানে হওয়ার কথা থাকলেও উরি হামলার পর ভারত অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর থেকে জোটটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। যদিও ভারত এখনও সার্কের সদস্য, তারা মূলত বিমসটেককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য এটিকেই ব্যবহার করছে।
এর আগে বিমসটেক সম্মেলনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেসময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হলেও শেখ হাসিনার আশ্রয় ইস্যুতে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে জটিল হয়ে উঠেছে।
সবার দেশ/কেএম




























