চিফ প্রসিকিউটর দাবি
হাসিনা সেনাবাহিনীকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গন্ডগোল সৃষ্টি এবং সেনাবাহিনীকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিন আসামির বিরুদ্ধে চলা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ পর্যায়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন,
অভিযোগপ্রাপ্তদের মধ্যে কোনও অনুশোচনা নেই। তিনি বলেন, এতো বড় অপরাধ করেছেন, দুনিয়ার সবাই জানে এ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তিনিও জানেন; কিন্তু কখনোই তার মধ্যে কোনও ধরনের অনুশোচনা পরিলক্ষিত হয়নি। উল্টো তিনি যারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন, তাদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে দেয়ার কথা বলেছেন এবং তাদের লাশ বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়ার কথা বলেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও দাবি করেন যে, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন এবং সেনাবাহিনীকে উসকিয়েছেন—সেনাবাহিনীকে বলতে চেষ্টা করেছেন, তোমাদের অফিসারদের বিচার হচ্ছে, তোমরা কেনো রুখে দাঁড়াচ্ছো না?—যার মাধ্যমে গৃহযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কিন্তু বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সেই ফাঁদে পা দেয়নি, জনগণেও এরকম কোনো প্রভাব পড়েনি। যারা অপরাধী ছিলো, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে এবং বিচারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে—কোনো উসকানিতে কেউ পা দেয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর আদালতে তুলে ধরেন যে, ঘটানো ‘নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ’ এবং ব্যাপক নির্যাতনের পরেও অভিযুক্তদের মধ্যে রিমোর্সের অভাব দেখা গেছে। তিনি বলেন, এ রকম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে পুরো প্রজন্মকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হয়েছে; ৩৫ হাজার মানুষ আহত ও অঙ্গহানি হয়েছে—তাছাড়া এখানে শিশু, নারী, শ্রমিক ও ছাত্ররাও ছিলেন। এসব দেখে তার বুক কাঁপা উচিত ছিলো; কিন্তু এখনও কোনো অনুশোচনা নেই। ফলে সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের অবশ্যই প্রাপ্য।
মামলায় অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এ তিনের মধ্যে আল-মামুন নিজেই দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে স্বীকার্য হয়েছেন বলে আগেই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে আজ যুক্তিতর্কের শেষ হওয়ার পর এখন বিচার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ কী হবে তা নির্ধারণের জন্য আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়।
সবার দেশ/কেএম




























