Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩০, ১১ এপ্রিল ২০২৬

 স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক 

যুবদল নেতার চাঁদাবাজির চাপে ডা. কামরুল ইসলাম

যুবদল নেতার চাঁদাবাজির চাপে ডা. কামরুল ইসলাম
ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালে যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের (ইনসেটে) নেতৃত্বে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

বিনা পারিশ্রমিকে হাজারো কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। কিন্তু এবার সে মানবিক চিকিৎসকই অভিযোগ করেছেন চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির শিকার হওয়ার।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মঈন।

জানা গেছে, ঢাকার শ্যামলীতে ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি)’ হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন ডা. কামরুল ইসলাম। প্রায় ১৯ বছর ধরে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। তার অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে হাসপাতালটির ওপর নজর পড়ে মঈন উদ্দিন মঈনের। এরপর থেকেই তার নেতৃত্বে একটি চক্র নিয়মিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম জানান, বিশেষ করে গত জুলাই-আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কখনও সরাসরি হুমকি, আবার কখনও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেরে বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

ঘটনার প্রমাণ হিসেবে একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন এবং নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মঈন উদ্দিন মঈন। তার সহযোগী হিসেবে মাঈনুদ্দিন নামের আরেকজনের নামও উঠে এসেছে, যার বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডা. কামরুল ইসলামের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছেও অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনও সমাধান মেলেনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহের টেন্ডারকে কেন্দ্র করেই মূল বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মঈনের চক্র। এরপর থেকেই চাঁদা দাবি ও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি শুরু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকও হয়েছে।

তবে ওসির দাবি, পুলিশের কাছে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়নি; বরং হাসপাতালের এক কর্মীর সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—একজন মানবিক চিকিৎসক যদি এভাবে হয়রানির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরছে বিভিন্ন মহলে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

আলোচনার জন্য পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদল
শার্শার ডিহিতে ব্রিজ ধস, অল্পের জন্য রক্ষা বালিভর্তি ট্রাক
বিদায় অনুষ্ঠানের আড়ালে ‘কুরুচিপূর্ণ’ আয়োজন
শুধু আলোচনার জন্যই বাঁচিয়ে রেখেছি ইরানের নেতাদের—দম্ভ ট্রাম্পের
ওয়াদা ভঙ্গ করেছে বিএনপি: জামায়াত আমির
যুবদল নেতার চাঁদাবাজির চাপে ডা. কামরুল ইসলাম
প্রথম দিনেই বিএনপির ফরম নিলেন ৫৪৪ নারী প্রার্থী
হরমুজে আটকে ‘বাংলার জয়যাত্রা’, শারজাহয় ফেরার নির্দেশ
আলোচনা ভেস্তে গেলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
মুচলেকায় মুক্তি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা রেদোয়ানের
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ সংসদে পাস
জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল পাস
হরমুজের আকাশে নিখোঁজ ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন
৮ হাজার কোটি টাকার তেল প্রকল্প পড়ে আছে অচল
ভেস্তে গেলো ইসলামাবাদ সংলাপ? সরে দাঁড়ালো ইরান!
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী
জনবল নেবে মেঘনা গ্রুপ, নেই বয়সসীমা
ইসরায়েল ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’: খাজা আসিফ