Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ০৩:৩৬, ২৭ মার্চ ২০২৫

রাস্তা এবং ফুটপাত হকারমুক্ত করতে করনীয় 

রাস্তা এবং ফুটপাত হকারমুক্ত করতে করনীয় 
ছবি: সবার দেশ

প্রতিটি এলাকায় ফুটপাত, ফুটপাতের পাশে রাস্তা, এমনকি মাঝখানের যে বিভাজক সড়ক দ্বীপ আছে সেখানেও দোকান আর দোকান, তরি তরকারি,  ফলমূল, ডিম, শাকসবজি, ভ্যানের সবজিওয়ালা ইত্যাদি ইত্যাদি। নিশ্চয়ই আপনার এলাকার অবস্থাও এমনটিই। সরকার পতনের পর অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে ঠিকই, তবে হকারের পরিমাণ সংখ্যায় বেড়েছে এ আর কি!

প্রশ্ন বাড়ল কেনো? উত্তর খুবই সহজ, বাড়বে না কেনো? আগের ঠিকাদার মালিক রাজনৈতিক দলের মাস্তান, এলাকার মাস্তান নেতা যারা চাঁদাবাজি করতো তারা তো এখন আর নাই । তারা সব গা ঢাকা দিয়েছে কিন্তু এখন একটি বিশাল রাজনৈতিক দলের নতুন নতুন নেতা ও তাদের প্রভাবে পুরনোর সাথে নতুন নতুন কিছু দোকান প্রসার লাভ করেছে। 

মোটরসাইকেল টিউবের লীক সারাতে গিয়ে বিভিন্ন প্রসঙ্গের মধ্যে এক দোকান মালিকের কথা শুনে আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। তিনি বললেন- ভাই বিশ্বাস করেন বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের নেতাদের ঔদ্ধত্যও এতটা দেখিনি, যেমন বর্তমানের নেতা, পাতি নেতাদের জোড়-জবরদস্তি এবং ঔদ্ধত্য বিরাজ করছে। এ যে দেখেন আমার টায়ার টিউবের দোকানের সামনে ফুটপাত সংলগ্ন দুইটি ইলেকট্রিক পোলের মাঝখানের একটি চা- এর দোকান সম্প্রতি বসানো হয়েছে। বসানোর সময়  যারা বসাতে এসেছে তাদেরকে আমি অনেক অনুরোধ করলাম যে ভাই এখানে বসাবেন না, বসালে আমার এখানে যে কাস্টমাররা আসেন, তাদের গাড়িটা রাখতে অসুবিধা হয় । যেহেতু আমি এখানে দীর্ঘদিন দোকান করি অতএব আপনারা একটু দূরে সরিয়ে বসান। না কোন মতেই তাদেরকে রাজি করানো গেলো না। তারা বহাল তবিয়তে দোকানদারি করেই যাচ্ছেন । আমার দীর্ঘদিনের ব্যবসার যে অসুবিধা হবে সেদিকে তাদের কোন খেয়াল নেই। স্থানীয় অনেক নেতা কর্মীদের আমি অনুরোধ করেছি, সবারই এক কথা ভাই দেখছি। আজ কয়েক মাস হয়ে গেলো তাদের দেখা চলছেই, এখন পর্যন্ত দেখার সমাপ্তি ঘটেনি আর আমারও সমস্যার কোন সুরাহা হয়নি‌।

ঘর থেকে রাস্তায় বের হলে মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগে এরকম অবস্থা দেখে। মনকে কিছুতেই বুঝাতে পারিনা, আনমনে ভাবতে থাকি কোন দেশে জন্মালাম, আবার ছুটে তো অন্য কোথাও পাড়ি জমাতেও পারি না। সবার দ্বারা সবকিছুতে হয় না। আমরা যে সমাজ গড়তে চাই সমাজের অনেক মানুষ তো তা চায় না। এ অবস্থার জন্য একমাত্র দায়ী  রাজনীতিবিদেরা এবং আমাদের রাজনৈতিক অবস্থা। তারা তাদের নেতা কর্মীদেরকে লালন পালন করেন চাঁদা উঠায়ে, যার প্রায় সবটুকুই আসে রাস্তা এবং ফুটপাতের চাঁদাবাজি হতে। অনেক লেখালেখি হয়েছে এ সকল ব্যাপারে কিন্তু তেমন কোন সমাধান মেলেনি আজ পর্যন্ত।

আরও পড়ুন <<>> ACR যদি Annual Confessional Report হয়, বদলে যাবে সমাজ 

আসুন এবার পরিত্রাণের উপায় খুঁজি- এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের বেশ কিছু উপায়ের মধ্যে কিছু হচ্ছে:
 
১. দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যাতে বেকার লোকজন কাজ করতে পারে। 
২. রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিকল্প ব্যবস্থায় কর্মী লালন পালনের ব্যবস্থা করা। 
৩. হকারেরা ব্যক্তি পর্যায়ে অন্য মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজেদের অন্য উপায় খুঁজে বের করে ব্যবসা-বাণিজ্য করা। 

৩ নাম্বার কারণ একটু ব্যাখ্যা করলে আমরা বুঝতে পারবো যে, হকারের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে,  আমরা যদি গাউছিয়া মার্কেটের সামনে রাস্তার দিকে খেয়াল করি, গাউছিয়া থেকে বাটা সিগন্যাল যেতে সেখানে রাস্তার দুপাশে ফুটপাতের পরেও বেশ কয়েকটি লাইন হয়ে গিয়েছে, অর্থাৎ কয়েক সারি দোকানদার এখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আগামী বছরগুলোতে নতুন নতুন বেকার তৈরি হবে তারাও এসে যদি এইভাবে দোকান করেন, তাহলে তো রাস্তায় গাড়ি চলাচলের জন্য আর কোন জায়গাই পাওয়া যাবেনা, তখন অবস্থা কেমন হবে? 

পরিশেষে আমাদের সকলকে ভাবতে হবে এবং সিদ্ধান্ত আসতে হবে আমরা কি করবো ? বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সদিচ্ছা এবং দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণেই এ অবস্থা থেকে জাতিকে আশু মুক্তি দিতে পারে।

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন