তারেক রহমানের নিরাপত্তা: জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন
২০১৫ সালে তৎকালীন অবৈধ সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর যখন পেটোয়া বাহিনীর হামলার মুখে পড়েছিলো, সেদিন একটি দৃশ্য আজও চোখে ভাসে। CSF-এর একজন সদস্য গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে যান। আর বাকিরা তাকে ফেলে রেখেই কনভয় নিয়ে এগিয়ে যায়।
এই ঘটনা ছিলো CSF এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতার নগ্ন প্রতিফলন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চার-পাঁচজন সদস্য নেমে পড়ে তাকে উদ্ধার করতে পারতো। কিন্তু কেউ থামেনি। একজন পড়ে রইলো। সে দৃশ্য আজও মনে জ্বলজ্বল করে।
আজ যখন তারেক রহমানকে নিয়ে আলোচনা হয় হেঁটে অফিসে যাওয়া, ব্যালকনি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানো, মনে পড়ে সেদিনের ভয়ঙ্কর নিরাপত্তা দুর্বলতা। আমরা জানি, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিনও আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নাজুক অবস্থায় ছিলো। এ বিষয়গুলো তুচ্ছ নয়; এগুলো গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
বাংলাদেশে রাজনীতি এখনো প্রতিহিংসা, আবেগে অন্ধ ও সহিংসতায় বিপজ্জনক। তাই আমরা একমত হতে পারি না যে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মতো অবাধে চলাফেরা করবেন। নিরাপত্তার সামান্য অবহেলা কত ভয়াবহ হতে পারে, আমাদের ইতিহাস তা বারবার দেখিয়েছে। শহীদ জিয়ার ট্র্যাজেডি তার প্রমাণ।
আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শেষ বড় ভরসার নাম তারেক রহমান। তিনি শুধু নেতা নন, দেশের ভবিষ্যতের প্রতীক। তার নিরাপত্তা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী যেমন একা বাজারে দাঁড়ান না, তেমনি আমরা চাই তারেক রহমান নিরাপদ থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম থাকুন।
দেশবিরোধী চক্র এখনও ওত পেতে আছে। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে। তাই তারেক রহমানের নিরাপত্তা আরও পেশাদার, নিখুঁত এবং শক্ত হওয়া অপরিহার্য। ২০১৫ সালের CSF ঘটনা আমাদের দেখিয়েছে, সংকট মুহূর্তে অব্যবস্থাপনা কত ভয়ংকর।
আমরা চাই তারেক রহমান বেঁচে থাকুন, নিরাপদ থাকুন, সুস্থ থাকুন। কারণ বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও সম্ভাবনার অনেক কিছু তার ওপর নির্ভর করছে।
দোয়া করি আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন। বাংলাদেশের জন্য তাকে নিরাপদ রাখুন।
লেখক:
জাতীয়তাবাদী অনলাইন এক্টিভিষ্ট
সম্পাদক, জিয়া সাইবার ফোর্স (জেডিসিএফ)




























