কোনটি বেশি প্রয়োজন- আধিপত্য না শান্তি?
আধিপত্য না শান্তি, কোনটি আপনি চান, কি আপনার পছন্দ? যদি আমার ভুল না হয়, তাহলে নিশ্চয়ই উত্তর হবে শান্তি, তাই নয় কি? পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষও তাই চাইবে যদি সে সাধারণ প্রকৃতির হয়। আর ভিন্ন প্রকৃতির হলে তো আলাদা কথা। তবে তারপরে তো আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ হয়, এখনও হচ্ছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় সব সময় যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই আছে। তার মানে কি, কিছু কিছু লোক যুদ্ধও চায়, তাই না? সাধারণত কোন মানুষ যুদ্ধ চায় না, তবে বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অনেকেই যুদ্ধ চায় বা চাইতে পারে।
যেমন এ মুহূর্তে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইত্যাদি ইত্যাদি। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতি যুদ্ধ সবাই সমর্থন করবে, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের জন্য বা নিজের সৌর্য্য বীর্য, শক্তি দেখানোর জন্য সেরকম কোন যুদ্ধ স্বাধীনচেতা সৎ ও ভালো কোন মানুষেই চাইতে পারেনা, আর তা চায়ও না কখনও। যুদ্ধ শেষে একপক্ষ হারে এক পক্ষ যেতে, কিন্তু দু দেশেরই মানবতা পরাজিত হয়। তাই যুদ্ধ কখনও শান্তি এনে দেয় না, এনে দিতে পারেনা। বর্তমানে যারা যুদ্ধ করছে তারাও কখনোই শান্তি পাবে না, পৃথিবীও শান্ত হবে না।
আরও পড়ুন <<>> সমাজ ব্যবস্থা বদলানোর মাধ্যমেই জাতীয় মুক্তি
১৯ শে জুন ২০২৫, আজ ৭ দিন হতে চলল ইসরাইল ইরানের যুদ্ধ। পরিস্থিতি দেখে আঁচ করা দুষ্কর যে, এ যুদ্ধ কখন থামবে বা আদৌ থামবে কিনা, নাকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েই গেলো! সময়ের বিবর্তনে পরিষ্কার হয়ে যাবে সামনে কি ঘটবে। আর সে পর্যন্ত আমরা চাই বা না চাই, অপেক্ষা করতেই হবে। ইসরায়েলের ধারণা যে ইরান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হয়ে যাচ্ছে, তাকে যে কোন মূল্যেই হোক প্রতিহত করতে হবে। তাই ইসরায়েল প্রথম ইরানকে আক্রমণ করে বসলো। আত্মরক্ষার জন্য ইরানও যথাযথ জবাব দিলো।
আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, চীন এবং আমাদের পাক ভারত উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। এছাড়া সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে নিজেদের জানান দিয়ে দিয়েছে এবং ইরানের ব্যাপারে সবাই সন্দেহ করছে যে তারা অনেকদূর অগ্রসর হয়ে গিয়েছে। ওদিকে শক্তিদের দেশগুলো পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করছে একসাথে, তারা চাইছে না যে, পৃথিবীর অন্য কোন দেশ আর পারমাণবিক শক্তি অর্জন করুক। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার কোন দেশ নতুন করে পারমাণবিক শক্তিধর হোক এটা তারা কোনমতেই মেনে নিতে পারছে না।
আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ আর নিজের খেয়াল খুশি মতো অন্য দেশে আক্রমণ করার জন্য যুদ্ধ কোনটি গ্রহণীয়?? সে প্রশ্নের উত্তর যাই হোক, আর এ যুদ্ধ নিয়ে কথা বাড়াতে গেলে, কখন থামবে, কি হবে এগুলো লিখতে গেলে পৃষ্ঠার পৃষ্ঠা চলে যাবে, শেষ হবেনা।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অশান্ত বিশ্বে আমরা নজর একটু ঘুরিয়ে দিয়ে এভাবে কি ভাবতে পারি যে, পৃথিবীর কোন দেশ আর যুদ্ধে জড়াবে না, এ মর্মে চুক্তি স্বাক্ষর করবে। পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো তারা যার যার অবস্থান থেকে আস্তে আস্তে পরমাণু অস্ত্র কমিয়ে কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনবে। প্রত্যেকটি দেশের সামরিক বাজেট কিছু অংশ কমিয়ে দিয়ে সমগ্র পৃথিবীতে সে টাকা দিয়ে শান্তির জন্য কাজ করবে। তাহলে তো পৃথিবী অনেক বেশি শান্ত হয়ে যাবে এবং জাতিতে জাতিতে, দেশে দেশে আর প্রাণহানিও ঘটবে না। তাহলে পৃথিবী কতই না সুন্দর হতো।
বিশ্ব নেতারা কি একটু ভাববেন এ ব্যাপারে, কারণ আপনাদের হাতেই তো পৃথিবী নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি।
লেখক:
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।




























