Sobar Desh | সবার দেশ মুহিউদ্দীন আহমেদ তানভীর

প্রকাশিত: ১৩:৫১, ৩১ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ১৫:৩০, ৩১ জুলাই ২০২৫

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক?
ছবি: সবার দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও এর শিক্ষার্থীরা যেন চিরকাল ‘অদৃশ্য’ থেকে গেছে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে। একদিকে দীর্ঘ সেশনজট, অন্যদিকে চাকরির বাজারে অবমূল্যায়ন—দু’য়ের সম্মিলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন, অথচ তাদের কণ্ঠ কেউ শুনছে না।

বাংলাদেশে প্রায় ২৭ লাখের বেশি শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করছে। এ বিপুল সংখ্যক তরুণের ভবিষ্যৎ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আটকে আছে। শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ ও বৈষম্যমূলক নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার যে গুণগত মান থাকা দরকার, তা অর্জিত হচ্ছে না।

প্রথমত, ‘সেশনজট’:

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্থায়ী অভিশাপ। একটি অনার্স কোর্স যেখানে ৪ বছরে শেষ হওয়ার কথা, সেখানে ৫-৬ বছর সময় লেগে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মাঝপথে হতাশ হয়ে পড়ছেন। কর্মজীবনে প্রবেশ করার উপযুক্ত সময়েই তারা স্নাতক শেষ করতে পারছেন না, যার ফলে বিসিএসসহ প্রতিযোগিতামূলক চাকরির সুযোগ থেকেও অনেক সময় তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

দ্বিতীয়ত, ‘চাকরির বাজারে বৈষম্য’:

অনেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ্যেই লেখা থাকে—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীরা অযোগ্য বা অগ্রাধিকার পাবে না। এটা কি সরাসরি বৈষম্য নয়? একটি রাষ্ট্র কীভাবে তার নিজস্ব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন আচরণ করতে পারে?

তৃতীয়ত, ‘পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব’:

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধিকাংশেই নেই মানসম্মত ক্লাসরুম, গবেষণার সুযোগ, অনলাইন লার্নিং, কিংবা পর্যাপ্ত শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা হয় আত্মনির্ভর হয়ে পড়ছে, নয়তো গাইডবইনির্ভর।

এছাড়াও ‘প্রশাসনিক জটিলতা ও স্বচ্ছতার অভাব’ শিক্ষার্থীদের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। রেজাল্ট প্রকাশে বিলম্ব, রি-চেক করার অনিশ্চয়তা, অভিযোগ করলে প্রতিকারহীনতা—সব মিলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মানেই যেন লড়াইয়ের আরেক নাম।

আরও পড়ুন <<>> শহীদ আনোয়ারা উদ্যান: জনস্বার্থে এখনই প্রত্যাবর্তন দরকার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অবহেলার শেকড়টা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে রয়ে গেছে। রাজধানী বা মেট্রোপলিটন শহরের বাইরে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা যেন কেবল ‘সংখ্যা বাড়ানো’র উপাদান হয়ে আছেন, গুণগত শিক্ষার ভাগীদার নয়।

তাই এখন সময় এসেছে এ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলে পৌঁছানোর। শুধু পরিসংখ্যানে নয়, বাস্তব উন্নয়নে—অধিকতর বরাদ্দ, জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা এবং চাকরির ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি এই রাষ্ট্রের দায় পূরণ করতে হবে।

শেষ কথা:

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি অব্যাহতভাবে বঞ্চনার শিকার হতে থাকেন, তবে একসময় এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এখনই সময়, তাদের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সূচনা করার।

লেখক:
সাংবাদিক

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

মিঠামইনে কুপিয়ে হত্যা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে
দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী
আজ জুলাই শহীদ দিবস: রাষ্ট্রীয় শোক পালন
জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ডিসেম্বরে ফিরলে বিমানবন্দরে গ্রেফতার, রায় কার্যকর হবে: নাহিদ
মার্কিন সিনেটে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল আটকে দিলেন ডেমোক্র্যাটরা
ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ
কাশিয়ানীতে বিএনপি নেতাদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা
মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড ঝুঁকিতে
ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট ফের চালু হচ্ছে ২৭ জুলাই
ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে স্পেন
নরসিংদীতে ২ মাসের শিশুর পা ভেঙ্গে দিলো আপন চাচি!
ফ্রান্সে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো ‘ফেত নাসিওনাল’
বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দিল্লিতে বসে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, ঢুকলেই গ্রেফতার: আইনমন্ত্রী