Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ২৩:৩২, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

টেকসই রাষ্ট্র গঠনে সৎ ও সুস্থ প্রশাসনের অপরিহার্যতা

টেকসই রাষ্ট্র গঠনে সৎ ও সুস্থ প্রশাসনের অপরিহার্যতা
ছবি: সবার দেশ

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির প্রতি আকর্ষণ কম নয়। বিশেষ করে বিসিএস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের মোহ কাজ করে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক লেখায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ আশরাফ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বিসিএস ক্যাডারদের শুরুর বেতন ৩৩ হাজার টাকা। ঘর ভাড়া কাটার পর হাতে থাকে ২২ থেকে ২৪ হাজার। এ টাকায় দুইজন মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা চালানোই কঠিন। নতুন পে-স্কেল এলে বেতন বাড়লেও সেটি দ্বিগুণ হবে না। ধরা যাক বেতন ৪৪ হাজার হলো—তবুও সন্তানদের পড়াশোনা, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামাল দেয়া প্রায় অসম্ভব।

তার প্রশ্ন, তাহলে এত সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করেন? যারা সৎ, তারা মাস শেষে সংসার চালাতে হিমশিম খান। ওদের তো একটা নতুন স্যুট কেনার টাকাও থাকার কথা না। অথচ অনেকে অঢেল টাকায় বিলাসী জীবনযাপন করছেন।

রিয়াদ আশরাফের মতে, বিসিএসকে ঘিরে অযথা গ্লোরিফিকেশন করা হচ্ছে। তরুণদের তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভেড়ার পালের মতো হুজুগে ভেসে গিয়ে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট কোরো না। সরকারি চাকরি করতে চাইলে করো, তবে চোখ বন্ধ করে নয়। বেসরকারি খাত বা ব্যবসাও হতে পারে সমান সম্ভাবনাময় পথ।

আর্ও পড়ুন <<>> সাধুবেশী শয়তান!

কিন্তু সমস্যা শুধু বেতনে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতেই স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার বড় সংকট রয়েছে। বাস্তবে কিছুসংখ্যক সৎ, মেধাবী কর্মকর্তা ছাড়া অনেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের আভিজাত্য দেখাতে ব্যস্ত।

প্রশ্ন হলো, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ কীভাবে সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিসিএস পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের তদবির কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না। প্রয়োজনে পিএসসির সদস্যদের চাকরি চলে গেলেও নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসা যাবে না।

শক্ত মনোবল নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তারা প্রশাসনে প্রবেশ করবেন। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও সততার ধারা প্রতিষ্ঠা করবেন। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রশাসন হবে সুস্থ, সৎ ও কার্যকর।

ফলাফল হিসেবে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত আরও দৃঢ় করবে এবং দেশ সঠিক পথে এগোবে। এভাবেই টেকসই ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

সোনারগাঁয়ে ছিনতাইকারীদের সিএনজিতে জনতার আগুন
ইরানবিরোধী হামলায় সৌদি আকাশসীমা নয়: যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা রিয়াদের
নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুঁশিয়ারি
বিমান পরিচালনা পর্ষদে সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি
একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি
পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২ বছরের মুনাফা পাবেন না
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা স্থগিত
দীর্ঘ বিরতির পর কুমিল্লায় তারেক রহমান
সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা
নাটোরের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান বাগাতিপাড়ার সামসুন্নাহার ও তৌহিদুল হক
ছাত্রীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের পলায়ন, মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ
নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার ২
মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ভারতীয় ইলিশের চালান আটক
ইরান বিক্ষোভ দমনে সফল, সরকারপন্থিদের দখলে রাজপথ
রংপুরে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যু মিছিল, সংখ্যা বেড়ে ৮
চেম্বার আদালতেও হতাশ হাসনাতের আসনের বিএনপি প্রার্থী মুন্সী
বিএনপি নেতা সাজু বহিষ্কার
তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের সাক্ষাৎ
আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দির মুক্তি
ইরানে হস্তক্ষেপ হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি উড়িয়ে দেবেন খামেনি