অফিস সময়ের কালক্ষেপন, সেবা গ্রহীতারা বঞ্চিত
ঘুষ ছাড়া খাজনা খারিজ করেন না ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা শাকিলা জাহান। দফতরে বহাল তবিয়তে আছেন প্রায় ৩ বছর ধরে। বিগত ৫ই আগষ্ট এর আগে ছিলেন সদরের তুলশিঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। নানা অনিয়মের অভিযোগে তাকে সেখান থেকে বদলী করা হয়। এরপর থেকে তার অবস্থান কামারজানি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।
তিনি ও তার কিছু অসাধু চক্র সদর উপজেলার এই ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ করেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তাসহ অফিসে কর্মরতদের চাহিদা মতো ঘুষ দিলেই হয় সব কাজ, না দিলেই হয়রানির শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত সেবাগ্রহীতাদের। সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব তথ্য ওঠে এসেছে সবার দেশ প্রতিনিধির কাছে।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শাকিলা জাহান ও তার সাথে থাকা কিছু বহিরাগত দালাল। তারা সবাই মিলেমিশে এ ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে যেনো ঘুষের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, খাজনার অনুমোদন, খাজনার চেক করে দিতে, খারিজের প্রতিবেদন-প্রস্তাব, হোল্ডিং এন্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন দিতে পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার এমনকি ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন কামারজানি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শাকিলা জাহান।
সেবাপ্রত্যাশীরা তাকে চাহিদা মত ঘুষ দিলেই মিলে কাজ, না দিলেই সেবাপ্রত্যাশীদের মাসের পর মাস হয়রানিতে পড়তে হয়। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অফিসে দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ। তার মদদে অফিসের স্টাফদের মতো দুজন দালাল থাকেন সব সময় অফিসে। দালালদের মধ্যস্ততায় সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকেও হাজার হাজার টাকা ঘুষ হাতিয়ে নেন তারা। দালাল চক্রের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত এলাকার আন্ডার মেট্রিক পাশ করা খেত আনারুল মিয়া। এছাড়াও আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধেও যেনো অভিযোগর শেষ নেই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জায়গা-জমির খারিজ (নামজারি) করিয়ে দিতে তারা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন এবং তা ভূমি কর্মকর্তাকে কাজের বিনিময় দেন। খারিজের জন্য কেউ ঘুষ দিয়েও ঘুরছে দিনের পর দিন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন অন্ত নেই।
উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের বাটিকামারি গ্রামের ভুক্তভোগী এক ৬০ বছরের ব্যাক্তি জানান, জমি খারিজের পর খাজনা দেয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন কিভাবে করতে হয় জানিনা। তবে খাজনা দেয়ার জন্য তিনি ভূমি অফিসে এসেছেন। কিন্তু এসে দেখেন কর্মকর্তা নেই। হতাশা নিয়ে বাড়ী ফিরতে হবে তাকে। ঠিক ততক্ষনে সবার দেশ প্রতিবেদকের সামনে তারা। জানতে চাইলে তারা বলেন, জমির খাজনা দেয়ার জন্য ‘হামরা আচ্চি’ কিন্তু অফিসে এসে দেখি কেউ নাই। ‘হামরা তো বাবা এগলে বুঝি না’। অবশেষে তিনি মিনিট ১০ দশেক পর কর্মকর্তা না আসায় চলে যান। সাথে আশা অন্য ব্যাক্তি একই গ্রামের বয়স প্রায় (৭০-৭৫) বছর। তিনিও খাজনা দিতে এসে এখন বিপদে।
সব চেয়ে গুরুতর অভিযোগ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেটি হলো নিয়মিত অফিস না করেই ঘরে বসেই তিনি অনেক সময় অফিসের কাজ করেন। এছাড়াও অফিসের সময় অনুযায়ী দফতরে না আসার প্রমানও রয়েছে সবার দেশ প্রতিবেদকের হাতে। গতকাল সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও দেখা না মেলায় অনেক সেবাগ্রহীতারা বাড়িতে চলে যান। বেলা আড়াইটার দিকে ভুমি কর্মকর্তা আসলে তাকে প্রশ্ন করায় তিনি জানান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার জরুরি একটি বৈঠক ছিলো সে কারনে তিনি গাইবান্ধায় ছিলেন এবং তিনি এসিল্যান্ডকে অবগত করেছেন।
এছাড়াও দালাল চক্রের সাথে কিছু লোক জড়িত থাকায় প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টিকে এড়িয়ে যান।
সবার দেশ/কেএম




























