দেশে ফিরছেন তারেক রহমান
বিএনপির চার মাসের নির্বাচনি রোডম্যাপ
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর খুব শিগগিরই লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। বিএনপি নেতারা মনে করেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে নির্বাচনি মাঠে দলের অবস্থান আমূল পাল্টে যাবে।
জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র চার মাস বাকি। এ সময়কে পুরোপুরি নির্বাচনি প্রস্তুতিতে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের কর্মসূচিতে থাকছে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন, ভোট তদারকি ও গণসংযোগ কর্মসূচি। এ সময়ের মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরারও প্রস্তুতি চলছে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সব সদস্য এতে অংশ নেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো সংঘাত বা পাল্টা কর্মসূচিতে যেতে চাইছে না। তার পরিবর্তে প্রার্থী বাছাই, ৩১ দফা সংস্কার প্রচার, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেয়া এবং যুগোপযোগী ইশতেহার তৈরিতেই মনোযোগ দেবে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর খুব শিগগির লন্ডনে যাচ্ছেন। তিনি সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে দেশে ফেরার তারিখ চূড়ান্ত করবেন। বিএনপি নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান দেশে ফিরলে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটবে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জামায়াতসহ কয়েকটি দলের যৌথ কর্মসূচি, জুলাই সনদ নিয়ে ঐকমত্য না হলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং সরকারের সংস্কার চাপিয়ে দেয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি রাজনীতিতে স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্য এক সদস্য বলেন, বিরোধী পক্ষের আন্দোলনের জবাব দেয়া হবে রাজনৈতিক বক্তব্য ও মাঠের কর্মসূচির মাধ্যমে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দলের দাবি নিয়ে আন্দোলনের অধিকার আছে, তবে জনসভা বা মিছিলে অংশ নেয়ার সংখ্যা দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব নির্ধারিত হয় না। আলোচনার টেবিলেই এ ধরনের বিষয় নির্ধারিত হবে এবং বিএনপি এখনো সে আলোচনায় আছে।
ইশতেহার প্রণয়নের কাজও শুরু করেছে দলটি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থ-বাণিজ্য, পররাষ্ট্র, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষায়, এবারের ইশতেহার হবে জনপ্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও সংস্কারকেন্দ্রিক।
অন্যদিকে, আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ের চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে বিভিন্ন দলীয় উইংয়ের মাধ্যমে। এসব তথ্য তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হচ্ছে। তিনি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করবেন।
স্থায়ী কমিটির পূর্ববর্তী বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া তুলতে মাঠের কর্মসূচি শুরুর সিদ্ধান্ত হলেও, সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য আলোচনার কারণে তা স্থগিত রাখা হয়। তবে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় দলটি এবার টানা চার মাস মাঠে থেকে প্রচারণা চালানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
জামায়াতসহ কয়েকটি দলের চলমান কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার সময়েই কর্মসূচি ঘোষণা করা স্ববিরোধী। এটি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার কৌশল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সবার দেশ/কেএম




























