অলিকে ছেড়ে নিজ ঘর বিএনপিতে ফিরলেন ড. রেদোয়ান
দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুরনো ঠিকানায় ফিরলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজার মধ্যে রেদোয়ানের এ পদত্যাগ ও বিএনপিতে ফিরে আসা দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা
বিএনপিতে যোগদানের পরপরই ড. রেদোয়ান আহমেদ আগামী নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, তিনি এ আসন থেকে অতীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলবদল করলেও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
ঘর বদলের প্রেক্ষাপট
ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ২০০৬ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি বিএনপি ছেড়ে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত এলডিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি এলডিপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সম্প্রতি ২০ দলের শরিকদের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব এবং জোটের অভ্যন্তরীণ নানা মেরুকরণের জেরে তিনি পুরনো দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
শরিক দলে ভাঙন ও বিএনপিমুখী স্রোত
ড. রেদোয়ান একাই নন, সম্প্রতি এলডিপি ও অন্যান্য শরিক দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এর আগে এলডিপির (একাংশ) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদা তাদের নিজ নিজ দল বিলুপ্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে জোটের শরিকদের মধ্যে ভাঙন এবং বিএনপির বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া এ দলবদলের প্রধান কারণ।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া
গুলশান কার্যালয়ে ড. রেদোয়ানকে স্বাগত জানান বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেদোয়ান আহমেদের মতো অভিজ্ঞ নেতার প্রত্যাবর্তনে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে কুমিল্লা অঞ্চলে বিএনপির অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ড. রেদোয়ান আহমেদের এ ফিরে আসা এলডিপির জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও বিএনপির জন্য তা বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























