গাজীপুরে নির্বাচনী সমাবেশ
ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যে অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছেন, সে ত্যাগ কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, গাজীপুর শুধু একটি শিল্পনগরী নয়, এটি দেশের গার্মেন্ট শিল্পের রাজধানী হিসেবেও পরিচিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম বাংলাদেশে গার্মেন্ট শিল্পের বিকাশ ঘটান, যার মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগও তার হাত ধরেই শুরু হয়। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে নতুন নতুন কল-কারখানা স্থাপন করে রপ্তানি আয় বাড়ানো হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
জনগণের কল্যাণে দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, খেটে খাওয়া মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে কর্মজীবী মায়েরা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন।
গাজীপুরের অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। এ এলাকার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারব্রিজ নির্মাণ করে যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জেলার প্রধান তিনটি নদী ও খাল—চিলাই, তুলাগ ও লবনদহ—দূষণ ও দখলের কারণে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। শ্রমিকদের জন্য হেল্থ কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।
সবশেষে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। আগামী ১২ তারিখে ভোটের দিন ফজরের নামাজ শেষে কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়াতে হবে, যাতে কেউ ভোট কেন্দ্র দখল করতে না পারে।
সবার দেশ/কেএম




























