সিরাজগঞ্জের ইস্যু নয়ে প্রেস উইংস ফ্যাক্টস
শ্মশান বিরোধকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শ্মশানের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ একটি বিরোধের ঘটনাকে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ হিসেবে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংস ফ্যাক্টস।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রেস উইংস ফ্যাক্টস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্লাপাড়ার একটি ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রেস উইংস ফ্যাক্টসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয় যে উল্লাপাড়ায় এক হিন্দু বৃদ্ধার লাশ সৎকারে ‘তৌহিদি জনতা’ বাধা দিয়েছে। এসব পোস্টে ঘটনাটিকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এ দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনও মিল নেই।
অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, ঘটনাটির সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনও সম্পর্ক নেই। মূলত শ্মশানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে চাবি পেতে দেরি হওয়ায় মৃত ব্যক্তির স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চাবির ব্যবস্থা করা হলে সেদিনই মরদেহের সৎকার সম্পন্ন হয়।
ঘোষগাতি গ্রামের বাসিন্দা বাবলু ভৌমিক জানান, মৃত মিনা বণিকের ছেলেরা মাইকিং করে উল্লাপাড়া মহাশ্মশানের নাম উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ওই শ্মশানের বর্তমান নাম ‘ঘোষগাতি মহাশ্মশান’। নামের এ বিভ্রান্তির কারণে সংশ্লিষ্টরা চাবি না দিয়ে যে শ্মশানের নাম মাইকিং করা হয়েছে, সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরফি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে শ্মশানের চাবি চাওয়া হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া সম্ভব হয়নি। এতে সাময়িক জটিলতা তৈরি হলেও পরে প্রশাসনের উদ্যোগে সমস্যার সমাধান করা হয় এবং মরদেহ সৎকারে কোনো বাধা থাকেনি। ঘটনার অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের।
প্রেস উইংস ফ্যাক্টস জানায়, সিরাজগঞ্জে সৎকারকে ঘিরে সৃষ্ট এ পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক সংশ্লিষ্টতা নেই। মূল ঘটনা আড়াল করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
সূত্র: বাসস
সবার দেশ/কেএম




























