রমজানে বইমেলার সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব প্রকাশকের
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২৬ আয়োজনকে সামনে রেখে সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন বিদ্যা প্রকাশনীর প্রকাশক। রমজান মাসজুড়ে বইমেলা আয়োজনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তিনি সংস্কৃত বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২৬’-এর আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ২৬ জানুয়ারি থেকে আবেদন যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হবে। যাচাইয়ে উত্তীর্ণ প্রকাশকদের প্যাভিলিয়ন বা স্টলের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে।
এবারের একুশে বইমেলা শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। পুরো সময়জুড়েই থাকবে পবিত্র রমজান মাস। প্রকাশকের মতে, এ সময়ে মেলায় পাঠকের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মফস্বল শহর থেকে আসা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের আগেই ঢাকা ছাড়বেন, অনেক পরিবার ঈদের প্রস্তুতির জন্য আগেভাগেই গ্রামে চলে যাবেন। যারা ঢাকায় থাকবেন, তারাও ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকবেন।
বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবছর মেলার গেট প্রতিদিন দুপুর ২টায় খুলে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে বন্ধের দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চালু থাকবে।
এ সময়সূচি নিয়ে প্রকাশক একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তার মতে, রোজার সময় অফিস ছুটি সাধারণত বিকেল ৪টায় হলেও মানুষ আরও আগে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ফলে বিকেল থেকেই রাস্তায় তীব্র যানজট শুরু হয়, যা ইফতার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ পরিস্থিতিতে দুপুরের পর মেলায় যাতায়াত পাঠক ও প্রকাশক—দু’পক্ষের জন্যই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি প্রস্তাব দেন, যদি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বইমেলা চালু রাখা হয়, তাহলে প্রকৃত পাঠকরা সকাল ও দুপুরের সময় নির্বিঘ্নে মেলায় এসে বই দেখতে ও কিনতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরাও সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরে তারাবির নামাজ আদায়সহ রমজানের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারবেন।
প্রকাশকের এ প্রস্তাব বাস্তবতা ও রমজানের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংস্কৃত বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
সবার দেশ/কেএম




























