তাজিনের লাশও কারাগারে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলো
সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা গত কয়েকদিন দুই লাইনে লেখা কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ এর– ‘মৃত শিশু দেখা করতে গেছে, তার জীবিত পিতার সাথে!’ শেয়ার করে হা-হুতাশ করেছে যে, এতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের মৃত্যুর পরকার একটি ঘটনা—যেখানে তার লাশ কারাগারে নিয়ে গিয়ে বন্দি মাকে শেষবারের মতো দেখানো হয়েছিলো।
‘যারা মনে করছেন প্রথম কোনও লাশ কারাগারে গেছে জীবিত মানুষের সাথে দেখা করতে তাদের জন্য এ পোস্ট’- এমন করেই নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ড. জহিরুল হুদা জালাল ।
তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সালটা ২০১৮, অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের বাবা ছিলো না। মায়ের একমাত্র সন্তান তাজিন আহমেদ। তার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির আবেদনের পরেও মুক্তি পায়নি তার মা। পরে অনেক অনুনয়-বিনয় করে লাশ মাকে দেখতে গিয়েছিলো।
তাজিনের মা সাদ্দামের মতো সন্ত্রাসী, ক্যাডার বা দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসারে ঝামেলা বাঁধায়নি। সাদ্দামের বউয়ের মতো পারিবারিক কলহের জন্য আত্মহত্যাও (?) করেনি।
সেদিন সকাল আটটায় তার সহকর্মীসহ পাঁচজন কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাজিনের লাশবাহী গাড়ি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের ফটকে নিয়ে আসেন। পরে তার লাশ মা দিলারাকে দেখানো হয়। এ সময় মেয়ের লাশ দেখে মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিছু সময় পরেই আবার তাজিনের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
তাজিনের মায়ের অপরাধ ছিলো তিনি বিএনপি’র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। সে কারণেই তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিলো।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের চাকুরিটাও কেড়ে নেয়া হয়েছিলো। এগুলো নিয়ে তখন তেমন নিউজও হয়নি। কারণ সে যুগে এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা ছিলো।
ওই কিছু মিডিয়া ছিলো দলান্ধ, বধির, বাকীগুলোর হাত-পা ছিলো বাঁধা। আর ২৪ এর গণহত্যাকারী নিষিদ্ধ জঙ্গি ছাত্রলীগের সাদ্দাম তো প্যারোলে আবেদনই করেনি। অথচ এটা নিয়ে রঙচঙ মাখানো মিডিয়ার নিউজ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তথাকথিত সুশীলদের ইনিয়ে বিনিয়ে সুড়সুড়ি দেয়া আবেগে তোলপাড় দুনিয়া।
সবার দেশ/কেএম




























