Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০০, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

মানবাধিকার প্রশ্নে বৈশ্বিক নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডিকে গ্রেফতার ঘিরে বিতর্ক

ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডিকে গ্রেফতার ঘিরে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, যিনি অল্পদিন আগেও দেশটির ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে গ্রেফতারের সময় যে আচরণ করা হয়েছে—তা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।  

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বর্ণনায় দেখা যায়, বয়সে প্রবীণ ওই নারীকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তার মুখ ফুলে গেছে, শরীরে আঘাতের চিহ্ন, হাঁটার শক্তি নেই—এমন অবস্থায় তাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমালোচকদের দাবি, গ্রেফতারের সময় তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মানব ইতিহাসে দাসদের সঙ্গে দাসব্যবসায়ীদের আচরণের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রশ্ন উঠেছে—এ নারীর অপরাধ কী, কোন আইন বা নীতির আওতায় এমন ব্যবহার বৈধ হতে পারে, আর কোন সভ্যতা এ ধরনের আচরণকে অনুমোদন দেয়?

এ ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও নারীবাদী প্ল্যাটফর্মগুলোর নীরবতা। অভিযোগ উঠেছে, যারা সাধারণত মানবাধিকার ও নারীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকেন, তারা এ ঘটনায় কার্যত নিশ্চুপ। কোনো প্রতিবাদ নেই, কোনও বিবৃতি নেই, নেই দৃশ্যমান আন্দোলন।

সমালোচকদের মতে, এ নীরবতার পেছনে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা কাজ করছে। কারণ অভিযুক্ত পক্ষ কোনও মুসলিম রাষ্ট্র বা সরকার নয়, যাকে সহজে দোষারোপ করে ‘শয়তান’ বানানো যায়। বরং অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। তাই বিষয়টি অনেকের কাছে তুচ্ছ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ একে ‘পৃথিবীর জন্য উপকারী’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। একবার ভেবে দেখুন, এমন একটি কাজ যদি ইরান করতো? আফগানিস্তান করতো? পাকিস্তান করতো? পুরো বিশ্বে ছি! ছি! পড়ে যেতো। উগ্রবাদ, অসভ্য, সন্ত্রাসী এহেন কোনও নেগেটিভ ট্যাগ লাগানো বাকি থাকতো না।

এ প্রেক্ষাপটে আরও বলা হচ্ছে, নাস্তিক, খ্রিস্টান, প্রগতিশীল কিংবা তথাকথিত মানবাধিকার কর্মী—কারও কাছ থেকেই জোরালো প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। কারণ অভিযোগের তীর গিয়ে ঠেকছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দিকে, যাকে সমালোচকরা উগ্র প্রোটেস্ট্যান্ট রাজনৈতিক ধারা হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পুরো পশ্চিমা বিশ্ব—কেউই দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। শেষ পর্যন্ত কোনও দেশের প্রকৃত নিরাপত্তা নির্ভর করে তার নিজের সক্ষমতার ওপর।

এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হচ্ছে, একটি রাষ্ট্রের একমাত্র কার্যকর মিত্র হলো সে শক্তি, যা সে নিজ হাতে তৈরি করে বা কোনও শর্ত ছাড়াই সংগ্রহ করতে পারে। কারণ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় দুর্বলদের জন্য সম্মান নেই। আবেগ, কান্না, নৈতিক বক্তৃতা, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ বা কূটনৈতিক প্রতিবাদ—সবকিছুই ক্ষমতার রাজনীতির কাছে গৌণ হয়ে পড়ে।

এ বাস্তবতায় উপসংহার টানা হচ্ছে—পৃথিবী কেবল তাকেই সম্মান করে, যার হাতে এমন শক্তি আছে, যা প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের ঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

আলোচিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হবে: মমতা
ফ্রান্সের নির্বাচনে শ্রমিক রাজনীতির নতুন প্রার্থী আনাস কা-জিব
সিঙ্গাপুর ওপেনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট
প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, এক প্ল্যাটফর্মে মিলবে সব সেবা
ডেঙ্গু মোকাবিলায় হামের চেয়েও দক্ষ হতে চায় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো আওয়ামী লীগ: ড. মঈন খান
বিএনপি নেতার জুয়ার আসরের ছবি ভাইরাল
জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আটক ১৫ নেতাকর্মী
যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন ট্রাম্প, অনড় অবস্থানে ইরান
সৌদিতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত: হারুনুর রশিদ
বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর দাপট, মৃত্যুর খাতা শুরু
খান জাহান আলীর মাজারের দীঘিতে কুমিরের পেটে শিশু
১০ জনের বাংলাদেশকে হারাতে পারলো না পাকিস্তান
ঈদের সিনেমার আয়-ব্যয়: মাল্টিপ্লেক্সে শীর্ষে ‘রকস্টার’
বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই
ইসলামী ব্যাংকের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ
কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় পর্যটক নিহত, আহত ৩
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ৭
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ