বাংলাদেশকে বিকল্প গ্রুপে রাখার প্রস্তাব
বিসিবি-আইসিসি বৈঠকে সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইসিসি প্রতিনিধিদের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বোর্ড।
বৈঠকের মূল ঘটনাবলি:
আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ সরাসরি বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন। তবে আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা ভিসা না পাওয়ায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বৈঠকে যুক্ত হন।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খেলোয়াড়, সমর্থক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে তারা ভারতে দল পাঠাতে রাজি নয়। এটি কেবল বিসিবির নয়, বরং বাংলাদেশ সরকারেরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা। লজিস্টিক জটিলতা এড়াতে বৈঠকে বিসিবি একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে— বাংলাদেশকে অন্য কোনও গ্রুপে স্থানান্তর করা, যার ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে পুরো টুর্নামেন্টের সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই সমাধান সম্ভব হতে পারে।
বিসিবির দাবি ও যুক্তি:
- সরকারের উদ্বেগ: বাংলাদেশ সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পক্ষ থেকে আইসিসিকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
- মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যু: আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের মৌখিক নির্দেশে সরিয়ে দেয়ার পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিসিবি মনে করে, যেখানে একজন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়কে সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে না, সেখানে পুরো দলের জন্য ঝুঁকি নেয়া অসম্ভব।
- নিরাপত্তা রিপোর্ট: বিসিবি দাবি করেছে, আইসিসির নিজস্ব নিরাপত্তা বিশ্লেষণেও নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকির কথা উল্লেখ আছে। তবে আইসিসি একে ‘লো মডারেট’ বা নিম্ন-মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
আইসিসি প্রতিনিধিরা বিসিবির প্রস্তাব ও উদ্বেগগুলো শুনেছেন। তারা জানিয়েছেন, বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সঙ্গে আলোচনার পর খুব দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। বিসিবি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, দাবি পূরণ না হলে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের পথেও হাঁটতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























