এপ্রিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ১১ দলের
সংস্কার ও স্থানীয় সরকার ইস্যুতে উত্তাপ বাড়ছে রাজনীতিতে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নানা সংস্কারমূলক উদ্যোগের কথা বললেও সংবিধান সংস্কার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ তুলেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এসব দাবিতে আগামী এপ্রিলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোটটি।
১১ দলীয় ঐক্যের অভিযোগ, নির্বাচনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংসদের অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা পালন করেনি সরকার। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন না করে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চলছে।
তাদের দাবি, ইতোমধ্যে ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের নীতির পরিপন্থী। দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলছে, ভোট এড়িয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার পতনের পর স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি অনুপস্থিত হয়ে পড়েন। ফলে শূন্য পদে সাময়িকভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। তবে বর্তমান সরকার সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দিচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলছে বিরোধী জোট।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এটি ভবিষ্যতের ‘পাতানো নির্বাচনের’ প্রস্তুতি।
একই সুরে কথা বলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনের সব স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা উচিত। কিন্তু প্রশাসকরা নির্বাচিত নন, ফলে এ ধরনের নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, ভোট নয়, নিয়ন্ত্রণ—এ নীতিতেই স্থানীয় সরকারকে পরিচালনার চেষ্টা চলছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
তিনি অভিযোগ করেন, যে দল গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই এখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনগণের হাত থেকে সরিয়ে নিয়োগনির্ভর কাঠামোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এছাড়া এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের ধীরগতির কারণে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হতে পারে বিরোধী দলগুলো।
অন্যদিকে, আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, যা গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জানা গেছে, ঈদের পর আগামী ২৮ মার্চ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। সে বৈঠক থেকেই আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে। নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে দ্রুত ঘোষণা না এলে রাজপথে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ইস্যুতে বিরোধী জোট মাঠে নামলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























