রিজার্ভ চুরি তদন্তে গতি
দুই ভারতীয়সহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৭ কর্মকর্তার তথ্য চেয়েছে দুদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সর্বশেষ পদক্ষেপে। সংস্থাটি এবার ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক ১৭ কর্মকর্তা এবং দুই ভারতীয় নাগরিকের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
সম্প্রতি গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দুদক কর্মকর্তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বর, দায়িত্বের পরিধি, পদমর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক বিবরণ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।
দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্তদের অনেকেই ২০১৬ সালের রিজার্ভ চুরির সময় দায়িত্বে ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নীতি শিথিলতা ও অনিয়মের মাধ্যমে চুরি সহজতর করার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সাবেক গভর্নর—ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। রিজার্ভ চুরির সময় গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন ড. আতিউর রহমান, যিনি ঘটনার পর ১৫ মার্চ ২০১৬ পদত্যাগ করেন।
এছাড়া সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফরাহ মো. নাছের, আহমেদ জামাল, বিএফআইইউয়ের সাবেক প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস এবং সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহার নামও রয়েছে তালিকায়।
বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক (সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন), আইসিটি বিভাগের দেবদুলাল রায়, কমন সার্ভিস বিভাগ-২-এর পরিচালক মো. তফাজ্জল হোসেন, বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স কাউন্সিলের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, এবং আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তা মসিউজ্জামান খান ও রাহাত উদ্দিন।
দুদকের চিঠিতে মসিউজ্জামানের নাম দুটি পদবিতে এসেছে—একবার অতিরিক্ত পরিচালক, আবার উপপরিচালক হিসেবে—যা একই ব্যক্তিকে নির্দেশ করে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
চিঠিতে আরও দুটি ভারতীয় নাগরিকের তথ্য চাওয়া হয়েছে—নীলা ভান্নান ও রাকেশ আস্তানা। নীলা ভান্নান রিজার্ভ চুরির আগে ‘সুইফট’ সংযোগ স্থাপনের কাজে যুক্ত ছিলেন, আর রাকেশ আস্তানা চুরির পর নিরাপত্তা ভেদ তদন্তে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পান তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানের আমলে।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত দুই কোটি ডলার ফেরত আসে, ফিলিপাইন থেকে উদ্ধার হয় দেড় কোটি ডলারের মতো। এখনো প্রায় ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে ফিলিপাইনের আদালতে।
রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও ছাড় সংক্রান্ত ব্যাংকের চারটি বিভাগ—ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, আইটি, পেমেন্ট সিস্টেমস এবং অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং—এ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো।
দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময়কার কর্মকর্তাদের ভূমিকা, সফটওয়্যার সংযোগ ও নিরাপত্তা নীতির দুর্বলতা—সব দিক বিবেচনা করে এখন নতুন করে প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, আট বছর পরও রিজার্ভ চুরির মূল নেটওয়ার্কের পূর্ণ চিত্র সামনে আসেনি। তবে এবার দুদকের পদক্ষেপের মাধ্যমে সে জটিল তদন্তে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























