খাগড়াছড়িতে অবরোধ প্রত্যাহার: অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির পর আংশিক শান্তি
খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধ অবশেষে পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে জুম্ম ছাত্র-জনতা। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে সংগঠনটির মিডিয়া সেল থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—‘শহীদদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পুণ্যকর্ম, আহত-ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা এবং প্রশাসনের আশ্বাস’ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সংঘাত থেকে সমঝোতা
- ১ অক্টোবর জেলা প্রশাসক, পরিষদ চেয়ারম্যান, পুলিশ ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় আন্দোলনকারীরা ৮ দফা দাবি পেশ করেন।
- প্রশাসন ধাপে ধাপে দাবি পূরণের আশ্বাস দেয় এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি জানায়।
- এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর সার্কিট হাউসে বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
সহিংসতার পটভূমি
- ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে এক মারমা স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
- প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র-জনতা অর্ধদিবস অবরোধ ডাকে।
- পরবর্তী সময় গুইমারা ও খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে; দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছে।
- ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারায় সহিংসতায় তিন পাহাড়ি যুবক নিহত, সেনাবাহিনীর মেজরসহ ১৩ সেনা সদস্য আহত, পুলিশের কয়েকজন ও স্থানীয়দেরও গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটে।
- অগ্নিসংযোগে সাবেক পরিষদ চেয়ারম্যান কংজুরী চৌধুরীর বাসভবনসহ বহু দোকান ও অফিস ভস্মীভূত হয়।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
- খাগড়াছড়ি সদর ও পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
- গুইমারাতেও একই ধারা জারি হয়, যা ভঙ্গ করে সহিংসতা আরও বাড়ে।
- জেলা প্রশাসন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
- নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসন ও পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।
বিতর্কিত মোড়
যে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো, তার শরীরে ধর্ষণের কোনও আলামত মেলেনি—ডাক্তারি পরীক্ষার এমন রিপোর্ট সামনে আসায় পরিস্থিতি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ খাগড়াছড়ি ও গুইমারার সহিংস ঘটনায় তিনটি মামলা করেছে, যেখানে আসামি করা হয়েছে এক হাজারেরও বেশি অজ্ঞাত ব্যক্তিকে।
অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে আপাতত খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, আন্দোলনের দাবিগুলো পূরণে প্রশাসন কতটা আন্তরিক, তা-ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক-সামাজিক আবহাওয়া।
সবার দেশ/কেএম




























