অষ্টগ্রামে বিএনপির চেয়ারযুদ্ধে আহত ৩০
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা ব্যবহারের এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের জনসভাস্থলে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে ভাতশালা গ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি নিজে জনসভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। জনসভার শেষ পর্যায়ে কাস্তুল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম কিসমতের নেতৃত্বে একটি মিছিল সভাস্থলে পৌঁছায়।
এ সময় মিছিলকারীরা সভাস্থলে বসতে গেলে চেয়ারে বসা নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে যুবদল নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং সভাস্থলে থাকা চেয়ার ছুড়ে মারতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় সভাস্থলে থাকা অনেকেই আতঙ্কে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
সংঘর্ষে আহত যুবদল নেতা মাহবুব আলম কিসমত অভিযোগ করে বলেন, মিছিল নিয়ে জনসভায় পৌঁছানোর পর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া ও তার লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, এতে যুবদলের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া বলেন, যুবদল নেতা কিসমত ও তার লোকজনই প্রথমে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় বিএনপির ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েব খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























