চটগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের জেরে শ্রমিক দলের ৪ কর্মচারীকে বদলি
চট্টগ্রাম বন্দরের চার কর্মচারীকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি)-এ বদলি করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পার্সোনেল অফিসারের স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইস্যুতে চলমান শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই এ বদলি আদেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কার্যত ‘শাস্তিমূলক বদলি’।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি দাফতরিক ও অপারেশনাল কাজের প্রয়োজনেই চার কর্মচারীকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে পানগাঁও আইসিটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, শনিবার বিকালেই তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয় এবং আগামীকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বদলি হওয়া চার কর্মচারী হলেন— অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (প্রথম শ্রেণি নৌ বিভাগ), উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ) এবং এস এস খালাসী মো. ফরিদুর রহমান (প্রকৌশল বিভাগ)।
জানা গেছে, বদলি হওয়া এ চারজনই জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গত ২৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যে অসন্তোষ ও আন্দোলন শুরু হয়, সেখানে তারা সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
এই আন্দোলনের জেরেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টদের ধারণা। আকস্মিক বদলির ঘটনায় বন্দর এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগ, ন্যায্য আন্দোলন দমন করতেই পরিকল্পিতভাবে ‘টার্গেট বদলি’ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, চারজন কর্মচারীকে তাদের বর্তমান বিভাগ থেকে সরিয়ে ঢাকা পানগাঁও আইসিটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি নিয়মিত দাফতরিক প্রক্রিয়া এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























